ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo রুটিনে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নাম না থাকায় কবি নজরুল কলেজ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বর্জন Logo কবি নজরুল কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত Logo রাষ্ট্রপতি পদে জামায়াত জোটের প্রার্থী কর্নেল অলি Logo উত্তরায় ‘গ্রিনিং বাংলাদেশ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইবিয়ান ক্লাবের বৃক্ষরোপণ Logo জোর করে বশ্যতা স্বীকার করানোর চেষ্টা প্রতিহত করবে ইরান: পেজেশকিয়ান Logo জাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক শেখ জিসানের পদত্যাগের ঘোষণা Logo বুটেক্সে ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের সাত দফা দাবি Logo নবীন বিতার্কিক তৈরির লক্ষ্যে কুবি ডিবেটিং সোসাইটির ‘ক্রাউন অব আর্গুমেন্টস’ Logo পাবিপ্রবির জুলাই–৬ হলের খাবারে মিলল পোকা, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা Logo বাকৃবিতে ৩১৮ গবেষণাপত্র নিয়ে বিএসভিইআরের সম্মেলন

হাবিপ্রবিতে বইয়ের উৎসব: জ্ঞানের আলোকধারায় মুখর তিনদিন

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) প্রাঙ্গণে বইয়ের সুবাস আর সৃজনশীলতার রঙে রঙিন হয়ে উঠতে যাচ্ছে এক জাকজমকপূর্ণ বইমেলা।

প্রথম আলো বন্ধুসভার উদ্যোগে আগামী ৪, ৫ ও ৬ মে—তিনদিনব্যাপী এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেবে জ্ঞান, সংস্কৃতি ও ভালোবাসার অনন্য বার্তা।

মেলার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য। এ সময় প্রথম আলো বন্ধুসভার উপদেষ্টারাও উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য বইকে মানুষের চিন্তা ও চেতনার বিকাশের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এমন আয়োজনকে সাধুবাদ জানান।

মেলায় থাকছে ১৪টি বইয়ের দোকান, যেখানে বিভিন্ন প্রকাশনীর বইয়ের সমারোহ থাকবে। এছাড়াও রয়েছে ২টি খাবারের স্টল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীদের নিজস্ব কারুকাজের পণ্যের একটি ব্যতিক্রমী স্টল। বইয়ের পাতার গন্ধের সঙ্গে সৃজনশীলতার এই সংমিশ্রণ মেলাকে দেবে ভিন্নমাত্রা।

প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকছে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক আয়োজন—গান, আড্ডা ও কবিতা আবৃত্তি। এবারের বইমেলায় “বুক রিভিউ” নামে ভিন্নধর্মী একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে বইপ্রেমিরা তাদের পছন্দের বইয়ের সারমর্ম তুলে ধরতে পারবেন। পাশাপাশি প্রিয়জনকে বই বা চিঠি উপহার দেওয়ার এক হৃদয়ছোঁয়া উদ্যোগও রেখেছে আয়োজকরা, যা তারা নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেবে। যেন ভালোবাসা আর অনুভূতির ভাষা হয়ে উঠছে বইয়ের পাতায় লেখা কিছু শব্দ।

বইমেলাকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা দিয়েছে ভিন্নরকম উচ্ছ্বাস। এক শিক্ষার্থী বলেন, “বই আমাদের মননশীল বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বইমেলা যেন জ্ঞানপিপাসু মানুষের তৃষ্ণা মেটানোর এক নির্মল সরোবর।”

প্রথম আলো বন্ধুসভার সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, “প্রতি বছরই আমরা বইমেলার আয়োজন করি। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে এবারের মেলাটি একুশে ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে মে মাসে আয়োজন করা হয়েছে। আগের তুলনায় আরও বড় পরিসরে আয়োজনের চেষ্টা করেছি, যেখানে সাজসজ্জায় বইকেন্দ্রিক একটি আবহ তৈরি করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, বইপ্রেমীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারব।”

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে আগত নতুন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এবারের বইমেলায় ভিন্নধর্মী আয়োজন রাখা হয়েছে। আমরা আশা করছি, একঘেয়ে একাডেমিক বইয়ের বাইরে নতুন জ্ঞান আহরণ ও বই পড়ার আগ্রহ সৃষ্টিতে এই বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

বইয়ের পাতায় লুকিয়ে থাকা হাজারো গল্প, অনুভূতি আর জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হতে হাবিপ্রবির এই বইমেলা হয়ে উঠবে শিক্ষার্থীদের এক মিলনমেলা—যেখানে শব্দেরা কথা বলবে, আর মানুষ খুঁজে পাবে নিজের এক নতুন জগৎ।

জনপ্রিয়

রুটিনে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নাম না থাকায় কবি নজরুল কলেজ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বর্জন

হাবিপ্রবিতে বইয়ের উৎসব: জ্ঞানের আলোকধারায় মুখর তিনদিন

প্রকাশিত ১২:৩১:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) প্রাঙ্গণে বইয়ের সুবাস আর সৃজনশীলতার রঙে রঙিন হয়ে উঠতে যাচ্ছে এক জাকজমকপূর্ণ বইমেলা।

প্রথম আলো বন্ধুসভার উদ্যোগে আগামী ৪, ৫ ও ৬ মে—তিনদিনব্যাপী এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেবে জ্ঞান, সংস্কৃতি ও ভালোবাসার অনন্য বার্তা।

মেলার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য। এ সময় প্রথম আলো বন্ধুসভার উপদেষ্টারাও উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য বইকে মানুষের চিন্তা ও চেতনার বিকাশের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এমন আয়োজনকে সাধুবাদ জানান।

মেলায় থাকছে ১৪টি বইয়ের দোকান, যেখানে বিভিন্ন প্রকাশনীর বইয়ের সমারোহ থাকবে। এছাড়াও রয়েছে ২টি খাবারের স্টল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীদের নিজস্ব কারুকাজের পণ্যের একটি ব্যতিক্রমী স্টল। বইয়ের পাতার গন্ধের সঙ্গে সৃজনশীলতার এই সংমিশ্রণ মেলাকে দেবে ভিন্নমাত্রা।

প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকছে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক আয়োজন—গান, আড্ডা ও কবিতা আবৃত্তি। এবারের বইমেলায় “বুক রিভিউ” নামে ভিন্নধর্মী একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে বইপ্রেমিরা তাদের পছন্দের বইয়ের সারমর্ম তুলে ধরতে পারবেন। পাশাপাশি প্রিয়জনকে বই বা চিঠি উপহার দেওয়ার এক হৃদয়ছোঁয়া উদ্যোগও রেখেছে আয়োজকরা, যা তারা নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেবে। যেন ভালোবাসা আর অনুভূতির ভাষা হয়ে উঠছে বইয়ের পাতায় লেখা কিছু শব্দ।

বইমেলাকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা দিয়েছে ভিন্নরকম উচ্ছ্বাস। এক শিক্ষার্থী বলেন, “বই আমাদের মননশীল বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বইমেলা যেন জ্ঞানপিপাসু মানুষের তৃষ্ণা মেটানোর এক নির্মল সরোবর।”

প্রথম আলো বন্ধুসভার সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, “প্রতি বছরই আমরা বইমেলার আয়োজন করি। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে এবারের মেলাটি একুশে ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে মে মাসে আয়োজন করা হয়েছে। আগের তুলনায় আরও বড় পরিসরে আয়োজনের চেষ্টা করেছি, যেখানে সাজসজ্জায় বইকেন্দ্রিক একটি আবহ তৈরি করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, বইপ্রেমীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারব।”

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে আগত নতুন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এবারের বইমেলায় ভিন্নধর্মী আয়োজন রাখা হয়েছে। আমরা আশা করছি, একঘেয়ে একাডেমিক বইয়ের বাইরে নতুন জ্ঞান আহরণ ও বই পড়ার আগ্রহ সৃষ্টিতে এই বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

বইয়ের পাতায় লুকিয়ে থাকা হাজারো গল্প, অনুভূতি আর জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হতে হাবিপ্রবির এই বইমেলা হয়ে উঠবে শিক্ষার্থীদের এক মিলনমেলা—যেখানে শব্দেরা কথা বলবে, আর মানুষ খুঁজে পাবে নিজের এক নতুন জগৎ।