রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার একটি নিয়মিত অভিযানকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গত কিছুদিন আগে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ দল কাজ শুরু করলে একদল দুষ্কৃতকারী সেখানে বাধা দেয়। এই বিরোধের জেরে সিটি করপোরেশনের কাজে নিয়োজিত কর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হঠাৎ হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা সরকারি কাজের গতি থমকে দিতে এই সহিংস পরিস্থিতির অবতারণা করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সহিংসতার একপর্যায়ে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে এবং সিটি করপোরেশনের বেশ কয়েকটি যানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ঘটনাস্থলে থাকা ডিএনসিসির তিনটি বর্জ্যবাহী গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং একটি খননযন্ত্র বা ভেকু ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশের গাড়িতেও হামলা চালিয়ে ক্ষতিসাধন করা হয়। এই আকস্মিক বিশৃঙ্খলায় সিটি করপোরেশনের পরিবহনকর্মী, সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিক এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরাও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন।
ঘটনার পরদিন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান ক্ষতিগ্রস্ত মিরপুর ১০ নম্বর এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দেন যে, এ ধরনের হামলা বা বাধা দিয়ে নগরবাসীর চলাচলের পথ অবরুদ্ধ রাখার চেষ্টা সফল হবে না। জনগণের নির্বিঘ্ন চলাচলের সুযোগ করে দিতে ফুটপাত উদ্ধারের এই চলমান কার্যক্রম কোনোভাবেই বন্ধ করা হবে না। তিনি অভিযোগ করেন যে, অতীতে অবৈধ দখল টিকিয়ে রাখা একটি বিশেষ মহল পরিকল্পিতভাবে এই অরাজকতা তৈরি করেছে।
এদিকে এই নাশকতার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, পুলিশের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও আলাদা মামলা দায়ের করা হবে। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ সাহসিকতার সাথে হামলাকারীদের প্রতিহত করায় তাদের প্রতি ধন্যবাদ জানান এবং নগরবাসীর স্বার্থে উচ্ছেদ অভিযান নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।































