আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ঐতিহাসিককাল থেকেই দুই মহাদেশের সংযোগস্থল হিসেবে পরিচিত ইস্তাম্বুল এখন আকাশপথের যোগাযোগেও বিশ্বজুড়ে নতুন রেকর্ড গড়ছে। বৈশ্বিক ভ্রমণ তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওএজির প্রকাশিত সর্বশেষ মেগাহাবস ইনডেক্সে শীর্ষস্থান দখল করেছে আইজিএ ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর। বিশ্বের বড় বিমানবন্দরগুলোর আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের নির্ধারিত সংযোগ এবং গন্তব্যের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এর ফলে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে ভালো যোগাযোগ-ব্যবস্থা সম্পন্ন বিমানবন্দর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে এই তুর্কি হাব।
প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ইস্তাম্বুলের ইউরোপীয় অংশে নির্মিত এই বিশাল বিমানবন্দরটি শুরু থেকেই অত্যন্ত ব্যাপক পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়ে তৈরি হয়েছিল। এর মূল টার্মিনালের আয়তন প্রায় ১৪ লাখ বর্গমিটার, যা এক ছাদের নিচে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টার্মিনাল হিসেবে স্বীকৃত। বর্তমানে বিমানবন্দরটি বিশ্বের প্রায় ৩৫০টি গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। প্রতি বছর আট কোটির বেশি যাত্রী এই সুবিধা গ্রহণ করছেন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী এর যাত্রী ধারণক্ষমতা ২০ কোটিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্প্রতি এর চতুর্থ প্রধান রানওয়ে চালু হওয়ার মাধ্যমে ফ্লাইটের সংখ্যা ও পরিচালন দক্ষতা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে জাতীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান টার্কিশ এয়ারলাইনসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের প্রায় ৮০ শতাংশ ফ্লাইটই এই সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং তারা বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ ১৩০টি দেশে ফ্লাইট পরিচালনার রেকর্ড ধরে রেখেছে। আধুনিক ও সাশ্রয়ী উড়োজাহাজ ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন সেবার মান উন্নত হয়েছে, অন্যদিকে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে টিকিট বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়েছে। এছাড়া বিমানবন্দরটির চমৎকার ভৌগোলিক অবস্থান, ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধা এবং যাত্রীদের জন্য আকর্ষক স্টপওভার কর্মসূচি এর জনপ্রিয়তা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপের ঐতিহ্যবাহী বিমানবন্দরগুলোর সম্প্রসারণ যখন বিভিন্ন আইনি ও পরিবেশগত জটিলতায় থমকে গেছে, তখন ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর এই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কিংবা বৈশ্বিক ভূরাজনীতির পরিবর্তন সত্ত্বেও তুরস্কের সুনির্দিষ্ট কৌশলগত অবস্থান এই হাবকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে। আগামী দিনে চীনের বিমানবন্দরগুলো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলার সম্ভাবনা থাকলেও, বর্তমান অবকাঠামোগত সুবিধা এবং আধুনিক সম্প্রসারণ পরিকল্পনা ইস্তাম্বুলকে শীর্ষস্থানে ধরে রাখতে সহায়তা করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।


































