জাতীয় ডেস্ক: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন যে ইলিশ হলো বাংলাদেশের অন্যতম বড় গর্ব ও ঐতিহ্য। পদ্মা নদীর রুপালি ইলিশের দেশজুড়ে আলাদা সুনাম রয়েছে এবং মাদারীপুর অঞ্চল এর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এই অমূল্য জাতীয় সম্পদ রক্ষা করার দায়িত্ব কেবল সরকারের একা নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা জরুরি। সম্প্রতি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চরজানাজাত উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলে পরিবারের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য অফিসের যৌথ উদ্যোগে এই কল্যাণমুখী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা জানান যে প্রতিবছরের মতো এবারও মা ইলিশ সংরক্ষণের সময়ে জেলেদের নদী থেকে মাছ ধরা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে ইলিশ রক্ষায় জেলেসহ সর্বস্তরের মানুষকে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে যাতে প্রজনন প্রক্রিয়া ব্যাহত না হয়। তিনি আরও বলেন যে সরকারি নিষেধাজ্ঞা সঠিকভাবে মেনে চললে শেষ পর্যন্ত জেলেরাই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন কারণ এতে ইলিশের উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এই সময়টাতে জেলেরা যেন কোনো ধরনের আর্থিক সংকটে না পড়েন, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে ভিজিএফ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
আসন্ন প্রজনন মৌসুমকে সামনে রেখে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান যে আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট বাইশ দিন মা ইলিশ সংরক্ষণে নদীতে মাছ ধরা, পরিবহন, মজুদ ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এই নির্দিষ্ট সময়ে সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য তিনি দেশের সকল জেলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। পাশাপাশি নিষিদ্ধ সময়ে কোনো অসাধু ব্যক্তি যাতে অবৈধ জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বক্ষণ কঠোর নজরদারিতে থাকার নির্দেশ দেন তিনি। ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের বেআইনি তৎপরতা কঠোরহস্তে দমন করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এলাকার নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়। এ সময় তালিকাভুক্ত প্রতিটি জেলে পরিবারকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে পঁচিশ কেজি করে চাল প্রদান করা হয় যা তাদের জীবিকা নির্বাহে কিছুটা স্বস্তি আনবে। উক্ত অনুষ্ঠানে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিএনপি ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অতিথিরা আশা প্রকাশ করেন যে সকলের সম্মিলিত সচেতনতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের মৎস্যসম্পদ আরও বেশি সমৃদ্ধ হবে এবং প্রকৃত জেলেদের জীবনমান উন্নত করা সম্ভব হবে।
































