ঢাকা ১০:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বিদেশি বীজনির্ভরতা কাটাতে কৃষিতে নতুন পরিকল্পনা Logo জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ২য় সমাবর্তন: রেজিস্ট্রেশন শুরু ১২ অক্টোবর, অংশ নিতে পারবেন কারা Logo উপাচার্যকে চেয়ারে বসিয়ে ভূমিমন্ত্রী বললেন, ‘দুষ্কৃতকারীদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই’ Logo পত্রিকা: ‘ঢাকায় প্রতি রুটে চলবে নির্দিষ্ট এক কোম্পানির বাস’ Logo সন্দেহের বশে কাউকে ‘বাংলাদেশি’ তকমায় দেশছাড়া করা যাবে না: কলকাতা হাইকোর্টের বিচারক Logo বাংলাদেশে এআইনির্ভর অর্থনীতি Logo সরু চালের দাম কেজিতে ২–৩ টাকা বেড়েছে Logo যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি, হুমকি বিনিয়োগ বন্ধের Logo বাজারে এলপিজির সংকট কাটেনি, দামও বাড়তি Logo নোবেল পুরস্কারের এ টু জেড: মনোনয়ন থেকে পুরস্কার তুলে দেওয়া পর্যন্ত কী ঘটে

বাংলাদেশে এআইনির্ভর অর্থনীতি

প্রযুক্তি ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি। বিদ্যুৎ কিংবা ইন্টারনেটের মতো এটিও মানব সভ্যতার গতিপথ বদলে দিচ্ছে এবং অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ জীবনের নানা ক্ষেত্রে গভীর প্রভাব ফেলছে। তবে এই প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনার সময় সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি সামনে আসে, তা হলো মানুষের কর্মসংস্থানের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব। চাকরি হারানোর ভয়ের চেয়েও বড় প্রশ্ন হওয়া উচিত, এই প্রযুক্তিকে মানুষ কীভাবে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে।

বাংলাদেশ মূলত একটি শ্রমনির্ভর অর্থনীতির দেশ, যেখানে তৈরি পোশাক, কৃষি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মতো খাতগুলো কোটি কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রধান উৎস। এছাড়া প্রতিবছর শ্রমবাজারে যোগ হওয়া লাখ লাখ তরুণের বড় অংশই অদক্ষ বা স্বল্পদক্ষ। উন্নত বিশ্বের মতো সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেশনের পথে হাঁটলে তা দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই অন্ধভাবে কর্মী ছাঁটাই না করে, উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বাড়াতে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।

উদাহরণস্বরূপ, তৈরি পোশাক কারখানায় কোয়ালিটি সুপারভাইজারদের কাজের গতি বাড়াতে কিংবা কৃষকদের ফসলের রোগবালাই ও আবহাওয়া সম্পর্কে আগাম তথ্য জানাতে এআই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এর ফলে কর্মীরা প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও দ্রুত ও নির্ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। একইভাবে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং সরকারি প্রশাসনিক কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যথাযথ প্রয়োগ জনবহুল এই দেশের দীর্ঘদিনের নানা সমস্যার টেকসই সমাধান দিতে সক্ষম।

তবে বাংলাদেশে এই প্রযুক্তি বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দক্ষ জনবলের অভাব এবং এআই নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে থাকা নানা সংশয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্মীদের নতুন দক্ষতা বা আপস্কিলিং শেখানোর বিষয়টি সব পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে বাংলা ভাষার নিজস্ব ডেটাসেট ও ভাষা মডেল তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, যাতে দেশের সাধারণ মানুষ সহজেই প্রযুক্তির সুফল ভোগ করতে পারে।

প্রযুক্তির এই নতুন যুগে সফলতা অর্জনের জন্য শুধুমাত্র প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর না করে শিক্ষা, শ্রম ও শিল্পনীতিকে একসূত্রে গেঁথে একটি সমন্বিত জাতীয় কৌশল তৈরি করতে হবে। দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো এর মানবশক্তি, তাই তাদের কর্মহীন না করে আরও সৃজনশীল ও উৎপাদনশীল করে তোলার মাধ্যমেই এআইয়ের প্রকৃত সুফল পাওয়া সম্ভব। সঠিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার সঙ্গেই কেবল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে দেশের সার্বিক উন্নয়নের সহযাত্রী করা যেতে পারে।

জনপ্রিয়

বিদেশি বীজনির্ভরতা কাটাতে কৃষিতে নতুন পরিকল্পনা

বাংলাদেশে এআইনির্ভর অর্থনীতি

প্রকাশিত ০৮:৪৫:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

প্রযুক্তি ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি। বিদ্যুৎ কিংবা ইন্টারনেটের মতো এটিও মানব সভ্যতার গতিপথ বদলে দিচ্ছে এবং অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ জীবনের নানা ক্ষেত্রে গভীর প্রভাব ফেলছে। তবে এই প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনার সময় সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি সামনে আসে, তা হলো মানুষের কর্মসংস্থানের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব। চাকরি হারানোর ভয়ের চেয়েও বড় প্রশ্ন হওয়া উচিত, এই প্রযুক্তিকে মানুষ কীভাবে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে।

বাংলাদেশ মূলত একটি শ্রমনির্ভর অর্থনীতির দেশ, যেখানে তৈরি পোশাক, কৃষি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মতো খাতগুলো কোটি কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রধান উৎস। এছাড়া প্রতিবছর শ্রমবাজারে যোগ হওয়া লাখ লাখ তরুণের বড় অংশই অদক্ষ বা স্বল্পদক্ষ। উন্নত বিশ্বের মতো সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেশনের পথে হাঁটলে তা দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই অন্ধভাবে কর্মী ছাঁটাই না করে, উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বাড়াতে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।

উদাহরণস্বরূপ, তৈরি পোশাক কারখানায় কোয়ালিটি সুপারভাইজারদের কাজের গতি বাড়াতে কিংবা কৃষকদের ফসলের রোগবালাই ও আবহাওয়া সম্পর্কে আগাম তথ্য জানাতে এআই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এর ফলে কর্মীরা প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও দ্রুত ও নির্ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। একইভাবে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং সরকারি প্রশাসনিক কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যথাযথ প্রয়োগ জনবহুল এই দেশের দীর্ঘদিনের নানা সমস্যার টেকসই সমাধান দিতে সক্ষম।

তবে বাংলাদেশে এই প্রযুক্তি বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দক্ষ জনবলের অভাব এবং এআই নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে থাকা নানা সংশয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্মীদের নতুন দক্ষতা বা আপস্কিলিং শেখানোর বিষয়টি সব পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে বাংলা ভাষার নিজস্ব ডেটাসেট ও ভাষা মডেল তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, যাতে দেশের সাধারণ মানুষ সহজেই প্রযুক্তির সুফল ভোগ করতে পারে।

প্রযুক্তির এই নতুন যুগে সফলতা অর্জনের জন্য শুধুমাত্র প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর না করে শিক্ষা, শ্রম ও শিল্পনীতিকে একসূত্রে গেঁথে একটি সমন্বিত জাতীয় কৌশল তৈরি করতে হবে। দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো এর মানবশক্তি, তাই তাদের কর্মহীন না করে আরও সৃজনশীল ও উৎপাদনশীল করে তোলার মাধ্যমেই এআইয়ের প্রকৃত সুফল পাওয়া সম্ভব। সঠিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার সঙ্গেই কেবল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে দেশের সার্বিক উন্নয়নের সহযাত্রী করা যেতে পারে।