ঢাকা ১২:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘জাতীয় অপমান’ ও ‘ভয়াবহ ব্যর্থতা’: মার্কিন সিনেটর Logo সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানের সমন্বয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বে মডেল বাংলাদেশ: রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর Logo মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভয়, লজ্জা ও কুসংস্কার দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo এআই কি দাজ্জাল? প্রযুক্তির নতুন জোয়ারে পুরোনো আতঙ্ক Logo ১৮ দিনেও কাটেনি চুয়েটের অচলাবস্থা, অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা Logo নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির এক যুগ পূর্তি, থাকছে নানা আয়োজন Logo বিশ্বসেরা দুই শতাংশ গবেষকের তালিকায় পাবিপ্রবি সাবেক শিক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম Logo বাকৃবিতে দুই দিনব্যাপী বিআইই কার্নিভাল শুরু Logo এক বাবার ৬ সন্তান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, ছায়েদ উল্লাহর স্বপ্নপূরণের গল্প Logo আলেমদের অন্যের ‘গেমের ঘুঁটি’ না হয়ে ‘নিজস্ব গেমের প্লেয়ার’ হতে বললেন হাসনাত আবদুল্লাহ

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করবে: অধিকার

জাতীয় ডেস্ক: প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়নের তীব্র সমালোচনা করে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার জানিয়েছে যে, এই পদক্ষেপ দেশের নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতএকে মারাত্মকভাবে খর্ব করবে। বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের সমালোচনা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অন্যায়ভাবে সন্ত্রাস দমন আইনের মতো কঠোর ধারায় অভিযুক্ত করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মানবাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে সংগঠনটির তিন দশক পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে এই গভীর উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়। সরকারের এমন দমনমূলক নীতি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতাকে সংকুচিত করছে বলে অভিযোগ করে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গুম প্রতিরোধ আইন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনে শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্ত করার ক্ষমতা বাতিল করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই সুনির্দিষ্ট ত্রুটিগুলোর কারণে অতীতে মিরাজ শেখের মতো সাধারণ জেলের গুম হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যার কোনো সন্ধান আজও মেলেনি। এছাড়া র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের নাম পরিবর্তন করে নতুন কাঠামোয় এসআরবি গঠন করা হলেও এর কার্যপ্রণালী আগের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তাই দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নত করতে এই আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো অবিলম্বে সংশোধনের দাবি জানিয়েছে অধিকার।

সংগঠনটির পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন সরকার ক্ষমতায় আসলেও তাদের বেশ কিছু কার্যক্রমের সঙ্গে ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মূল চেতনার বিরোধ দেখা যাচ্ছে। ক্ষমতা গ্রহণের অব্যবহিত পরেই গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অস্বীকৃতি এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে প্রণীত গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার অধ্যাদেশগুলো সংসদে পাস না করায় সেগুলোর কার্যকারিতা নষ্ট হয়েছে। এর ফলে দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো অনভিপ্রেত ঘটনা পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে মনে করছে সংগঠনটি। সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ছাড়া কোনো রাষ্ট্রই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বা অগ্রগতির পথে এগোতে পারে না বলে তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।

উল্লেখ্য, নব্বইয়ের দশকের স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের পটভূমিতে ১৯৯৪ সালের অক্টোবর মাসে অধিকারের যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এটি নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় কাজ করে আসছে। বিগত বছরগুলোতে বিশেষ করে শেখ হাসিনার সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে অধিকারের কর্মী ও সংগঠকদের বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক নিপীড়ন ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তবে সকল প্রতিকূলতা পেরিয়ে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তারা আপসহীন অবস্থানে রয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে নিপীড়নের শিকার সকল মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে অধিকার তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

জনপ্রিয়

ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘জাতীয় অপমান’ ও ‘ভয়াবহ ব্যর্থতা’: মার্কিন সিনেটর

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করবে: অধিকার

প্রকাশিত ১০:৩২:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়নের তীব্র সমালোচনা করে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার জানিয়েছে যে, এই পদক্ষেপ দেশের নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতএকে মারাত্মকভাবে খর্ব করবে। বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের সমালোচনা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অন্যায়ভাবে সন্ত্রাস দমন আইনের মতো কঠোর ধারায় অভিযুক্ত করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মানবাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে সংগঠনটির তিন দশক পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে এই গভীর উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়। সরকারের এমন দমনমূলক নীতি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতাকে সংকুচিত করছে বলে অভিযোগ করে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গুম প্রতিরোধ আইন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনে শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্ত করার ক্ষমতা বাতিল করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই সুনির্দিষ্ট ত্রুটিগুলোর কারণে অতীতে মিরাজ শেখের মতো সাধারণ জেলের গুম হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যার কোনো সন্ধান আজও মেলেনি। এছাড়া র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের নাম পরিবর্তন করে নতুন কাঠামোয় এসআরবি গঠন করা হলেও এর কার্যপ্রণালী আগের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তাই দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নত করতে এই আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো অবিলম্বে সংশোধনের দাবি জানিয়েছে অধিকার।

সংগঠনটির পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন সরকার ক্ষমতায় আসলেও তাদের বেশ কিছু কার্যক্রমের সঙ্গে ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মূল চেতনার বিরোধ দেখা যাচ্ছে। ক্ষমতা গ্রহণের অব্যবহিত পরেই গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অস্বীকৃতি এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে প্রণীত গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার অধ্যাদেশগুলো সংসদে পাস না করায় সেগুলোর কার্যকারিতা নষ্ট হয়েছে। এর ফলে দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো অনভিপ্রেত ঘটনা পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে মনে করছে সংগঠনটি। সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ছাড়া কোনো রাষ্ট্রই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বা অগ্রগতির পথে এগোতে পারে না বলে তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।

উল্লেখ্য, নব্বইয়ের দশকের স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের পটভূমিতে ১৯৯৪ সালের অক্টোবর মাসে অধিকারের যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এটি নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় কাজ করে আসছে। বিগত বছরগুলোতে বিশেষ করে শেখ হাসিনার সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে অধিকারের কর্মী ও সংগঠকদের বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক নিপীড়ন ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তবে সকল প্রতিকূলতা পেরিয়ে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তারা আপসহীন অবস্থানে রয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে নিপীড়নের শিকার সকল মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে অধিকার তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।