ঢাকা ১১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo রাজুর ডাকে কক্সবাজারে গিয়েছিল তাজমিন, ফেরার পথে হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী Logo ভিভো ওয়াই৩২ কিনে উপহার জেতার সুযোগ Logo ‘ছেলেটা ভালো স্মৃতি নিয়ে ফিরুক’, সেই জার্মান তরুণকে ম্যাকবুক উপহার দিলেন ব্যবসায়ী Logo গড়াই নদে হবে ‘শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু’, বাবা বললেন ‘খুশি তো অবশ্যই’ Logo ছয় বছর ধরে ভারতের কারাগারে বন্দী, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পুরস্কার পেলেন মুসলিম যুবক Logo সেনাপ্রধানকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ভিত্তিহীন: আইএসপিআর Logo ঢাকায় জগজিৎ সিংকে স্মরণ করে গজল সন্ধ্যা Logo সাংবাদিকতা থেকে ‘মনের বন্ধু’: তৌহিদা শিরোপার গল্প | লিগ্যাসি উইথ এমআরএইচ | পর্ব–০৯ Logo ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে বরিশালে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ শুরু Logo চট্টগ্রামের মেজবানি স্বাদ এবার ঢাকায়, রেনেসন্সের বাহারে ‘মেজ্জানত আইয়ুন’

পানি নিয়ে আইন-পরিকল্পনা আছে, নেই সমন্বিত ব্যবস্থাপনা

জাতীয় ডেস্ক: দেশের পানির সংকট দূর করতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বহু বছর ধরে নানা ধরনের আইন, নীতিমালা ও প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তবে নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন খাতের মধ্যে সঠিক সমন্বয়ের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। আর এই সমন্বয়হীনতার কারণেই খরা, লবণাক্ততা এবং নদীদূষণের মতো মারাত্মক সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধান মিলছে না। ফলে মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষ ও কৃষকরা এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন যে পানি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার অভাব রয়েছে। ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা স্থানীয় সরকার—প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করলেও সামগ্রিক কোনো যৌথ পরিকল্পনা দেখা যায় না। এর ফলে একই সমস্যা সমাধানে অনেক সময় ভিন্নমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যা রাষ্ট্রের সম্পদের অপচয় ঘটায় এবং প্রকৃত সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করে।

বর্তমানে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে, যার ফলে সুপেয় পানির সংকট এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। অন্যদিকে বরেন্দ্র অঞ্চলের মতো স্থানগুলোতে খরতাপের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। শিল্পবর্জ্য ও গৃহস্থালির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার যথাযথ কড়াকড়ি না থাকায় নদনদীগুলোর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এই বহুমুখী সংকট মোকাবিলায় শুধু খণ্ডিত উদ্যোগ যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের কার্যক্রম এক সুতোয় গেঁথে সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা চালুর বিকল্প নেই। সরকারের নীতিনির্ধারক মহলকে অবিলম্বে মাঠপর্যায়ের বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি পানির অপচয় রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নদী রক্ষায় কঠোর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন পরিবেশবিদরা। সঠিক কর্মপরিকল্পনা ও তার যথাযথ বাস্তবায়নই পারে ভবিষ্যতের মারাত্মক পানির সংকট থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করতে।

জনপ্রিয়

রাজুর ডাকে কক্সবাজারে গিয়েছিল তাজমিন, ফেরার পথে হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী

পানি নিয়ে আইন-পরিকল্পনা আছে, নেই সমন্বিত ব্যবস্থাপনা

প্রকাশিত ০৮:৪৫:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: দেশের পানির সংকট দূর করতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বহু বছর ধরে নানা ধরনের আইন, নীতিমালা ও প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তবে নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন খাতের মধ্যে সঠিক সমন্বয়ের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। আর এই সমন্বয়হীনতার কারণেই খরা, লবণাক্ততা এবং নদীদূষণের মতো মারাত্মক সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধান মিলছে না। ফলে মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষ ও কৃষকরা এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন যে পানি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার অভাব রয়েছে। ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা স্থানীয় সরকার—প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করলেও সামগ্রিক কোনো যৌথ পরিকল্পনা দেখা যায় না। এর ফলে একই সমস্যা সমাধানে অনেক সময় ভিন্নমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যা রাষ্ট্রের সম্পদের অপচয় ঘটায় এবং প্রকৃত সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করে।

বর্তমানে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে, যার ফলে সুপেয় পানির সংকট এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। অন্যদিকে বরেন্দ্র অঞ্চলের মতো স্থানগুলোতে খরতাপের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। শিল্পবর্জ্য ও গৃহস্থালির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার যথাযথ কড়াকড়ি না থাকায় নদনদীগুলোর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এই বহুমুখী সংকট মোকাবিলায় শুধু খণ্ডিত উদ্যোগ যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের কার্যক্রম এক সুতোয় গেঁথে সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা চালুর বিকল্প নেই। সরকারের নীতিনির্ধারক মহলকে অবিলম্বে মাঠপর্যায়ের বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি পানির অপচয় রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নদী রক্ষায় কঠোর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন পরিবেশবিদরা। সঠিক কর্মপরিকল্পনা ও তার যথাযথ বাস্তবায়নই পারে ভবিষ্যতের মারাত্মক পানির সংকট থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করতে।