আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে আন্দোলনরত তরুণদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান যে ভারতের এই লড়াই কেবল তাদের একার নয়, ঢাকা থেকে বাংলাদেশের মানুষ তাদের পাশে রয়েছে। ক্ষমতার জবাবদিহি এবং মানবিক মর্যাদার অভিন্ন দাবিতে সবাই ঐক্যবদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন যে ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর দমনপীড়ন চালানো হচ্ছে। মৌলিক অধিকারের ওপর এই সরাসরি আক্রমণ এবং নির্বিচার গ্রেপ্তার মেনে নেওয়া যায় না বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবিতে সোচ্চার ছাত্র-নাগরিকদের আটক করার তীব্র সমালোচনাও করেন এই তরুণ নেতা।
নিজের বক্তব্যে বাংলাদেশের বিগত গণ-অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নাহিদ জানান যে তাদের লড়াইয়ের ইতিহাস সবার পরিচিত। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন একপর্যায়ে ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নিয়েছিল। সেই দুঃসময়ে ভারতের শিক্ষার্থী ও স্বাধীন কণ্ঠস্বরগুলোর দেখানো সংহতির কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন তিনি।
ভারতের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ উল্লেখ করে তিনি শাহীনবাগের নারী সমাজ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগ্রামের কথা স্মরণ করেন। রাজনৈতিক বন্দি শারজিল ইমাম ও উমর খালিদসহ সম্প্রতি আটক হাজার হাজার আন্দোলনকারীর অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন তিনি। দক্ষিণ এশিয়ার যুবসমাজকে অনুপ্রাণিত করা এসব সহযোদ্ধার পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই নেতা।
সবশেষে ভারতের গণতান্ত্রিক জনগণের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান যেন তারা শক্ত থাকে এবং সাম্প্রদায়িক ঘৃণাকে প্রত্যাখ্যান করে। দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎকে বিভাজন ও ফ্যাসিবাদ থেকে রক্ষায় সবাইকে একযোগে কাজ করার বার্তা দেন তিনি। বাংলাদেশের জুলাই প্রজন্ম সবসময় তাদের পাশে থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



































