ঢাকা ১২:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলার তীব্র নিন্দা বাংলাদেশের Logo এবার মুক্তি পেলেন ককরোচের অভিজিৎসহ ৩ শীর্ষ নেতা Logo ইউনিয়ন পরিষদে বসেন না সরকারি কর্মকর্তারা, ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা Logo বাংলাদেশ সম্পর্কে আইপিইউর ভুল ধারণা কেটে গেছে: স্পিকার Logo স্যাটেলাইটের পর এবার মোবাইল অপারেটর হতে চায় স্পেসএক্স Logo সৌদির পক্ষে যুদ্ধে যোগ দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র? Logo গাংনী সীমান্তে ৬ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় পিছু হটল বিএসএফ Logo শীতলপাটি থেকে স্যান্ডেল তৈরির উদ্যোগ রাবির চার শিক্ষার্থীর Logo ‘শিশুপণ্যে সিসার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন’ Logo শতাধিক গ্রিন শিপইয়ার্ড করার পরিকল্পনা সরকারের

শতাধিক গ্রিন শিপইয়ার্ড করার পরিকল্পনা সরকারের

অর্থনীতি ডেস্ক: বিশ্ববাজারে পুরোনো জাহাজের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে কাজে লাগাতে এবং পরিবেশবান্ধব জাহাজ রিসাইক্লিং খাতকে সম্প্রসারণ করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশে গ্রিন শিপইয়ার্ডের সংখ্যা বাড়িয়ে শতাধিক করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশে ৩১টি গ্রিন সার্টিফায়েড শিপইয়ার্ড রয়েছে এবং আরও কয়েকটি ইয়ার্ডকে এই সনদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পরিবেশসম্মত এই খাতের যথাযথ বিকাশ ঘটলে ভবিষ্যতে প্রতিবছর জাতীয় অর্থনীতিতে কয়েক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও বিশেষ ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তোলার কাজও ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

জাহাজ নির্মাণ ও পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ খাতে রপ্তানি বাড়াতে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও অবকাঠামোগত সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা। বিশ্ববাজারের একটি বড় অংশ বাংলাদেশের দখলে থাকলেও উন্নত দেশের মানদণ্ড বজায় রাখতে কমপ্লায়েন্স বা বিধিমালা প্রতিপালন অত্যন্ত জরুরি। বেসরকারি শিপইয়ার্ডগুলোর রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়নে ব্যাংক গ্যারান্টি সমস্যা দূর করতে নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডের সঙ্গে সমন্বয়ে হাইব্রিড মডেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কাঁচামাল প্রাপ্তি সহজ করার পাশাপাশি ডিজাইন সক্ষমতা ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে একটি বিশেষ কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে।

ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চারটি আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নি সংস্থাও। আন্তর্জাতিক বাজারে এই শিল্পকে প্রতিযোগিতাসক্ষম করতে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ট্রিটমেন্ট, স্টোরেজ অ্যান্ড ডিসপোজাল ফ্যাসিলিটি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মিরসরাইয়ের জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে এর জন্য প্রায় ষাট একর জমি চিহ্নিত করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জাইকা, এডিবি, বিশ্বব্যাংক এবং চীনের একটি ব্যাংক এই প্রকল্পে অর্থায়ন করতে আগ্রহ দেখিয়েছে।

পরিবেশমন্ত্রী জানান যে বর্জ্য শোধনাগার বা টিএসডিএফ না থাকায় ইউরোপীয় জাহাজের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বিকল্প গন্তব্য বেছে নিচ্ছে। ইউরোপীয় জাহাজে থাকা উন্নতমানের পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদানগুলো দেশের বাজারে আকৃষ্ট করতে এই অবকাঠামো দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। বর্জ্য শোধন, সংরক্ষণ ও নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এই শিল্পটির প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও বেশি শক্তিশালী হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সরকারের এই বহুমুখী পদক্ষেপের ফলে দেশের জাহাজ নির্মাণ ও পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ খাত বিশ্বমঞ্চে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

জনপ্রিয়

রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলার তীব্র নিন্দা বাংলাদেশের

শতাধিক গ্রিন শিপইয়ার্ড করার পরিকল্পনা সরকারের

প্রকাশিত ০৯:৩৭:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: বিশ্ববাজারে পুরোনো জাহাজের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে কাজে লাগাতে এবং পরিবেশবান্ধব জাহাজ রিসাইক্লিং খাতকে সম্প্রসারণ করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশে গ্রিন শিপইয়ার্ডের সংখ্যা বাড়িয়ে শতাধিক করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশে ৩১টি গ্রিন সার্টিফায়েড শিপইয়ার্ড রয়েছে এবং আরও কয়েকটি ইয়ার্ডকে এই সনদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পরিবেশসম্মত এই খাতের যথাযথ বিকাশ ঘটলে ভবিষ্যতে প্রতিবছর জাতীয় অর্থনীতিতে কয়েক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও বিশেষ ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তোলার কাজও ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

জাহাজ নির্মাণ ও পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ খাতে রপ্তানি বাড়াতে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও অবকাঠামোগত সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা। বিশ্ববাজারের একটি বড় অংশ বাংলাদেশের দখলে থাকলেও উন্নত দেশের মানদণ্ড বজায় রাখতে কমপ্লায়েন্স বা বিধিমালা প্রতিপালন অত্যন্ত জরুরি। বেসরকারি শিপইয়ার্ডগুলোর রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়নে ব্যাংক গ্যারান্টি সমস্যা দূর করতে নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডের সঙ্গে সমন্বয়ে হাইব্রিড মডেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কাঁচামাল প্রাপ্তি সহজ করার পাশাপাশি ডিজাইন সক্ষমতা ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে একটি বিশেষ কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে।

ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চারটি আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নি সংস্থাও। আন্তর্জাতিক বাজারে এই শিল্পকে প্রতিযোগিতাসক্ষম করতে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ট্রিটমেন্ট, স্টোরেজ অ্যান্ড ডিসপোজাল ফ্যাসিলিটি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মিরসরাইয়ের জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে এর জন্য প্রায় ষাট একর জমি চিহ্নিত করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জাইকা, এডিবি, বিশ্বব্যাংক এবং চীনের একটি ব্যাংক এই প্রকল্পে অর্থায়ন করতে আগ্রহ দেখিয়েছে।

পরিবেশমন্ত্রী জানান যে বর্জ্য শোধনাগার বা টিএসডিএফ না থাকায় ইউরোপীয় জাহাজের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বিকল্প গন্তব্য বেছে নিচ্ছে। ইউরোপীয় জাহাজে থাকা উন্নতমানের পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদানগুলো দেশের বাজারে আকৃষ্ট করতে এই অবকাঠামো দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। বর্জ্য শোধন, সংরক্ষণ ও নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এই শিল্পটির প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও বেশি শক্তিশালী হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সরকারের এই বহুমুখী পদক্ষেপের ফলে দেশের জাহাজ নির্মাণ ও পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ খাত বিশ্বমঞ্চে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।