ঢাকা ০২:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ঐক্য ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা লিবিয়ায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলভিত্তিক পার্লামেন্টে দীর্ঘ ১২ বছর পর স্পিকার পদে পরিবর্তন এসেছে। নতুন স্পিকার হিসেবে আল-সালেহিন আবদুন নবী আল-আবিদি নির্বাচিত হওয়ায় দেশটির ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা নির্বাচন আয়োজন এবং বিভক্ত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একীভূত করার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

সম্প্রতি পার্লামেন্টের সদস্যরা স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারদের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১২ মাসে সীমিত করার বিধান অনুমোদন করেন। এর পরপরই নতুন স্পিকার নির্বাচিত হলেও বিদায়ী স্পিকার আগুইলা সালেহ এই প্রক্রিয়াকে আইনগতভাবে অবৈধ বলে চ্যালেঞ্জ করেছেন। বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন যে তিনি এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতেন এবং অতীতে তার বিরুদ্ধে সদর দপ্তরে প্রবেশাধিকার বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগও উঠেছিল।

নতুন স্পিকার আল-আবিদি ও বিদায়ী স্পিকার আগুইলা সালেহ দুজনেই প্রভাবশালী ওবেইদাত গোত্রের সদস্য হওয়ায় স্থানীয় ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া আল-আবিদি অতীতে লিবিয়া-তুরস্ক পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ কমিটির চেয়ারম্যান থাকায় তুরস্কের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থাপনায় তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে এই পরিবর্তন পূর্বাঞ্চলের সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতারের প্রভাব আরও সংহত হওয়ার লক্ষণ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

লিবিয়ার রাজনৈতিক সংকটের মূল কেন্দ্র হলো পশ্চিমাঞ্চলের ত্রিপোলিভিত্তিক সরকার এবং পূর্বাঞ্চলের রাজনৈতিক-সামরিক কাঠামোর মধ্যে ক্ষমতা ও সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ। এর আগে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় নির্বাচন আয়োজনের রূপরেখা তৈরি হলেও ত্রিপোলিভিত্তিক উচ্চ পরিষদ তা প্রত্যাখ্যান করে। এমতাবস্থায় পূর্বাঞ্চলের পার্লামেন্টে এই নেতৃত্ব পরিবর্তন জাতীয় সমঝোতা ও নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

জনপ্রিয়

ডেঙ্গু: ফুটপাতে মশারির ভেতর বসে প্রতিবাদ ৫ নারীর

জাতীয় ঐক্য ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা লিবিয়ায়

প্রকাশিত ১২:৩৭:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলভিত্তিক পার্লামেন্টে দীর্ঘ ১২ বছর পর স্পিকার পদে পরিবর্তন এসেছে। নতুন স্পিকার হিসেবে আল-সালেহিন আবদুন নবী আল-আবিদি নির্বাচিত হওয়ায় দেশটির ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা নির্বাচন আয়োজন এবং বিভক্ত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একীভূত করার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

সম্প্রতি পার্লামেন্টের সদস্যরা স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারদের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১২ মাসে সীমিত করার বিধান অনুমোদন করেন। এর পরপরই নতুন স্পিকার নির্বাচিত হলেও বিদায়ী স্পিকার আগুইলা সালেহ এই প্রক্রিয়াকে আইনগতভাবে অবৈধ বলে চ্যালেঞ্জ করেছেন। বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন যে তিনি এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতেন এবং অতীতে তার বিরুদ্ধে সদর দপ্তরে প্রবেশাধিকার বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগও উঠেছিল।

নতুন স্পিকার আল-আবিদি ও বিদায়ী স্পিকার আগুইলা সালেহ দুজনেই প্রভাবশালী ওবেইদাত গোত্রের সদস্য হওয়ায় স্থানীয় ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া আল-আবিদি অতীতে লিবিয়া-তুরস্ক পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ কমিটির চেয়ারম্যান থাকায় তুরস্কের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থাপনায় তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে এই পরিবর্তন পূর্বাঞ্চলের সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতারের প্রভাব আরও সংহত হওয়ার লক্ষণ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

লিবিয়ার রাজনৈতিক সংকটের মূল কেন্দ্র হলো পশ্চিমাঞ্চলের ত্রিপোলিভিত্তিক সরকার এবং পূর্বাঞ্চলের রাজনৈতিক-সামরিক কাঠামোর মধ্যে ক্ষমতা ও সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ। এর আগে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় নির্বাচন আয়োজনের রূপরেখা তৈরি হলেও ত্রিপোলিভিত্তিক উচ্চ পরিষদ তা প্রত্যাখ্যান করে। এমতাবস্থায় পূর্বাঞ্চলের পার্লামেন্টে এই নেতৃত্ব পরিবর্তন জাতীয় সমঝোতা ও নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।