ঢাকা ০৬:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ব্যারিকেড সরানোসহ ইন্টারনেট-গণপরিবহন স্বাভাবিক করার নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আরোপিত কড়াকড়ি শিথিল করার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, একান্ত প্রয়োজন ছাড়া সব ধরনের ব্যারিকেড সরিয়ে নিতে হবে এবং জনসাধারণের চলাচল সম্পূর্ণরূপে স্বাভাবিক রাখতে হবে। একই সঙ্গে ইন্টারনেট সেবা সচল রাখার পাশাপাশি রেল ও মেট্রো চলাচলও নির্বিঘ্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি দিল্লির বিভিন্ন মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং ট্রেন চলাচল বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা একটি আদালত অবমাননার আবেদনের শুনানিতে এই আদেশ দেওয়া হয়। আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠি এই আবেদনটি আদালতে দায়ের করেছিলেন। এর আগে গত নয় অক্টোবর অন্য এক মামলার শুনানিতে ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা ও ট্রেন বাতিলের বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যার প্রেক্ষিতে নতুন করে আদালতের এই হস্তক্ষেপ আসে।

শুনানি চলাকালীন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ মন্তব্য করেছেন যে, নাগরিকদের প্রতিবাদের পূর্ণ অধিকার রয়েছে তবে তা অবশ্যই আইনের সীমার মধ্যে থাকতে হবে। আদালত পর্যবেক্ষণ করেছেন যে জনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিধিনিষেধ আরোপ করা গেলেও এর ফলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। আবেদনকারীকে উদ্দেশ করে বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, প্রতিবাদের অধিকার কখনো পুলিশ আইনের ঊর্ধ্বে বলে গণ্য করা যেতে পারে না। বিক্ষোভ প্রদর্শনের পদ্ধতি নিয়ে আইনি কাঠামোর মধ্যে থাকার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

আদালতের এই নির্দেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বিক্ষোভের সময় আটক ব্যক্তিদের বর্তমান পরিস্থিতি এবং তাদের আটকের পুরো প্রক্রিয়াটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব এবং দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশনকে (ডিএমআরসি) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে আদালতের দেওয়া এই নির্দেশগুলো বাস্তবায়নের সর্বশেষ অগ্রগতি জানিয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট।

দিল্লির মতো জনবহুল রাজধানীতে নিরাপত্তা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আন্দোলন বা বিক্ষোভের কারণে যেন গণপরিবহন এবং জরুরি ডিজিটাল পরিষেবা ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি এই আদেশের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে। আদালতের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে রাজধানীর সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

‘তৌফিক ইমরোজ খালিদীর আত্মকথা’ লিখতে চেয়েছিলাম

ব্যারিকেড সরানোসহ ইন্টারনেট-গণপরিবহন স্বাভাবিক করার নির্দেশ

প্রকাশিত ০৪:০৭:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আরোপিত কড়াকড়ি শিথিল করার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, একান্ত প্রয়োজন ছাড়া সব ধরনের ব্যারিকেড সরিয়ে নিতে হবে এবং জনসাধারণের চলাচল সম্পূর্ণরূপে স্বাভাবিক রাখতে হবে। একই সঙ্গে ইন্টারনেট সেবা সচল রাখার পাশাপাশি রেল ও মেট্রো চলাচলও নির্বিঘ্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি দিল্লির বিভিন্ন মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং ট্রেন চলাচল বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা একটি আদালত অবমাননার আবেদনের শুনানিতে এই আদেশ দেওয়া হয়। আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠি এই আবেদনটি আদালতে দায়ের করেছিলেন। এর আগে গত নয় অক্টোবর অন্য এক মামলার শুনানিতে ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা ও ট্রেন বাতিলের বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যার প্রেক্ষিতে নতুন করে আদালতের এই হস্তক্ষেপ আসে।

শুনানি চলাকালীন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ মন্তব্য করেছেন যে, নাগরিকদের প্রতিবাদের পূর্ণ অধিকার রয়েছে তবে তা অবশ্যই আইনের সীমার মধ্যে থাকতে হবে। আদালত পর্যবেক্ষণ করেছেন যে জনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিধিনিষেধ আরোপ করা গেলেও এর ফলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। আবেদনকারীকে উদ্দেশ করে বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, প্রতিবাদের অধিকার কখনো পুলিশ আইনের ঊর্ধ্বে বলে গণ্য করা যেতে পারে না। বিক্ষোভ প্রদর্শনের পদ্ধতি নিয়ে আইনি কাঠামোর মধ্যে থাকার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

আদালতের এই নির্দেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বিক্ষোভের সময় আটক ব্যক্তিদের বর্তমান পরিস্থিতি এবং তাদের আটকের পুরো প্রক্রিয়াটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব এবং দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশনকে (ডিএমআরসি) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে আদালতের দেওয়া এই নির্দেশগুলো বাস্তবায়নের সর্বশেষ অগ্রগতি জানিয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট।

দিল্লির মতো জনবহুল রাজধানীতে নিরাপত্তা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আন্দোলন বা বিক্ষোভের কারণে যেন গণপরিবহন এবং জরুরি ডিজিটাল পরিষেবা ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি এই আদেশের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে। আদালতের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে রাজধানীর সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।