অপরাধ ডেস্ক: রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনে দেওয়ালে অঙ্কিত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি মুছে ফেলার চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চার আসামির ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের আদালতে হাজির করে এই রিমান্ড চেয়েছেন। ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই রিমান্ড বিষয়ের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আ ন ম আয়াসসহ আরও তিন জন।
পুলিশের করা এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়া, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা তৈরি করা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। সম্প্রতি শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেওয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি মুছে ফেলার চেষ্টা চালানোর সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধার মুখে পড়েন অভিযুক্তরা। ওই সময় পুলিশের সাথে তাদের তীব্র বাগবিতণ্ডা হয় এবং এক পর্যায়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক নারী রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্য তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেন।
অভিযুক্ত ওই নারী তখন দাবি করেছিলেন যে তারা মূলত ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানাতেই সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। পুলিশের বাধা পেয়ে আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বে তারা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে শুরু করেন। উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সেগুনবাগিচার ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর সেখানকার দেওয়ালে বিভিন্ন গুণী ব্যক্তিত্বের ছবি আঁকা হয়েছিল। শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদান রাখা প্রায় দশজন প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি স্থান পেয়েছিল সেই দেওয়ালচিত্রে।
এর আগে একটি ফেসবুক পেজ থেকে এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের ছবি অঙ্কন নিয়ে নানাবিধ প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের কিছু সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি কেন আঁকা হলো, তা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল একটি পক্ষ। পরবর্তীতে সেই বিরোধের জের ধরেই ওই ব্যক্তিরা সেখানে প্রতিকৃতিগুলো মুছে ফেলতে গিয়েছিলেন। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার আইনগত প্রক্রিয়া এবং আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।




































