জাতীয় ডেস্ক: পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে প্রথমবারের মতো সফলভাবে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোাহাম্মদ জাহেদুল হাছান গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এই প্রক্রিয়া শুরুর পর চুল্লির সব পরিমাপ নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরও এক ধাপ অগ্রগতি হলো।
পারমাণবিক চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত শৃঙ্খল বিক্রিয়ার এই পর্যায়কে বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি বলা হয়ে থাকে। এই পর্যায়ে চুল্লির ভেতরে পারমাণবিক জ্বালানি থেকে নিয়ন্ত্রিতভাবে তাপ উৎপন্ন হতে শুরু করে। তবে এই বিক্রিয়া শুরুর অর্থ এই নয় যে এখনই তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের আগে চুল্লির শক্তি বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও নিরাপত্তার বেশ কিছু পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।
বিক্রিয়া শুরুর ওই অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনসহ দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নিরাপত্তা নির্দেশনা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত মেনে পরবর্তী পরীক্ষাগুলো চালানো হবে। প্রয়োজনীয় সনদ ও অনুমোদন পাওয়ার পরই কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং গ্রিডে সংযোগের পরবর্তী ধাপে যাওয়া সম্ভব হবে। এর আগে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রথম ইউনিটকে এই ধাপে যাওয়ার অনুমতি দেয়।
উল্লেখ্য, রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় দেশের প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মিত হচ্ছে এবং এর দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা দুই হাজার চারশ মেগাওয়াট। এই কেন্দ্র থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের অভিজাত ক্লাবে প্রবেশ করবে। নিরাপত্তার সব শর্ত কঠোরভাবে মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পূর্ণ করার কাজ এগিয়ে চলেছে।





































