জাতীয় ডেস্ক: স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে আসন্ন সোমবার বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীনের সভাপতিত্বে নির্বাচন ভবনে এই গুরুত্বপূর্ণ কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় চার নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকে ইউনিয়ন পরিষদ ভোটের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ও বিভিন্ন স্লটের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে সরকারের সঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে পরীক্ষার কারণ দেখিয়ে নভেম্বর ও ডিসেম্বরে ভোট না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সব পক্ষের সম্মতিতে আগামী জুনের প্রথমার্ধের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, কমিশন সভা শেষে কোন কোন ধাপে বা স্লটে নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হবে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে সরাসরি কেন্দ্রীয়ভাবে তফসিল ঘোষণা করা হবে না, বরং সংশ্লিষ্ট জেলার নির্বাচন কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকার তফসিল ঘোষণা করবেন।
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন যে সোমবারের বৈঠকে ইউপি নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করে তা গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়া নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার আশা প্রকাশ করেছেন যে আগামী জানুয়ারি মাস থেকেই ইউপি ভোট শুরু করা সম্ভব হবে। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর স্থানীয় সরকারের অন্যান্য স্থগিত থাকা নির্বাচনগুলোও শুরু করবে কমিশন।
সোমবারের এই কমিশন সভার নির্ধারিত এজেন্ডার মধ্যে রয়েছে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা ও ইউনিয়ন পরিষদের সময়সূচি নির্ধারণ। পাশাপাশি জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা অর্পণের বিষয়টিও এই সভায় আলোচিত হবে। এছাড়া পার্সোনালাইজেশন সেন্টারের মেশিনের রক্ষণাবেক্ষণ, কার্ড প্রিন্টিং ও বকেয়া বিল পরিশোধ সংক্রান্ত কমিটির কার্যবিবরণী পর্যালোচনা করা হবে।
সভায় অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচন পদক নীতিমালা ২০২৫ এর খসড়া অনুমোদনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সাল থেকেই সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং পৌরসভার মতো স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন বন্ধ রয়েছে। বর্তমান কমিশন ইউনিয়ন পরিষদের ভোট সফলভাবে শেষ করার পর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজনের দিকে মনোযোগ দেবে।



































