ঢাকা ০২:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

ইসরাইলের দিকে ঝুঁকতে যাচ্ছে সৌদি?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, হুথিদের হুমকি এবং মার্কিন সামরিক সহায়তার অনিশ্চয়তা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত রাজনীতিতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মোকাবিলা করতে দেশটির পক্ষ থেকে ইসরাইলের সঙ্গে সীমিত নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি সামনে আসছে। তবে দুই দেশের মধ্যে প্রকাশ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন এবং তা স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়াটি বেশ বড় একটি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। মুসলিম বিশ্বে ফিলিস্তিন সংকটের গুরুত্ব এবং রিয়াদের দীর্ঘদিনের অবস্থান এই সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পথকে জটিল করে তুলেছে।

ইয়েমেনভিত্তিক হুথিদের সামরিক তৎপরতা ও লোহিত সাগরকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকি সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহনে সমস্যা তৈরি হলে বিকল্প পাইপলাইন ও লোহিত সাগরের বন্দরগুলোর ওপর চাপ বাড়ে। এসব গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বা অবকাঠামোয় হামলার ঝুঁকি এড়াতে উন্নত গোয়েন্দা তথ্য ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এসব ক্ষেত্রে ইসরাইলের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা থাকায় দুই দেশের কৌশলগত স্বার্থের সম্ভাব্য মিল নিয়ে বিশ্লেষকরা নানা আলোচনা করছেন।

দীর্ঘকাল ধরে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে অস্ত্র সরবরাহ ও সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। তবে আঞ্চলিক সংঘাতে ওয়াশিংটনের ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে রিয়াদকে বিকল্প উপায় খুঁজতে হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ইসরাইল ছাড়াও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এবং তুরস্কের সামরিক সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জায়গা পুরোপুরি ইসরাইল নিতে পারবে এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই এবং রিয়াদকে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।

সৌদি আরব ও ইসরাইলের প্রকাশ্য সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সবচেয়ে বড় বাধা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়টি। সৌদি নেতৃত্ব ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতিকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রধান শর্ত হিসেবে বারবার তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, এ বিষয়ে ইসরাইলের রাজনৈতিক অবস্থান দুই পক্ষের দূরত্ব বজায় রেখেছে এবং অভ্যন্তরীণ জনমতের বিষয়টিও রিয়াদকে বিবেচনায় রাখতে হয়। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে সীমিত বা পরোক্ষ সহযোগিতা বাড়লেও তা দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্কে রূপ নেওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

জনপ্রিয়

জামিন পেয়েই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান আইভীর

ইসরাইলের দিকে ঝুঁকতে যাচ্ছে সৌদি?

প্রকাশিত ১০:৫২:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, হুথিদের হুমকি এবং মার্কিন সামরিক সহায়তার অনিশ্চয়তা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত রাজনীতিতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মোকাবিলা করতে দেশটির পক্ষ থেকে ইসরাইলের সঙ্গে সীমিত নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি সামনে আসছে। তবে দুই দেশের মধ্যে প্রকাশ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন এবং তা স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়াটি বেশ বড় একটি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। মুসলিম বিশ্বে ফিলিস্তিন সংকটের গুরুত্ব এবং রিয়াদের দীর্ঘদিনের অবস্থান এই সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পথকে জটিল করে তুলেছে।

ইয়েমেনভিত্তিক হুথিদের সামরিক তৎপরতা ও লোহিত সাগরকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকি সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহনে সমস্যা তৈরি হলে বিকল্প পাইপলাইন ও লোহিত সাগরের বন্দরগুলোর ওপর চাপ বাড়ে। এসব গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বা অবকাঠামোয় হামলার ঝুঁকি এড়াতে উন্নত গোয়েন্দা তথ্য ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এসব ক্ষেত্রে ইসরাইলের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা থাকায় দুই দেশের কৌশলগত স্বার্থের সম্ভাব্য মিল নিয়ে বিশ্লেষকরা নানা আলোচনা করছেন।

দীর্ঘকাল ধরে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে অস্ত্র সরবরাহ ও সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। তবে আঞ্চলিক সংঘাতে ওয়াশিংটনের ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে রিয়াদকে বিকল্প উপায় খুঁজতে হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ইসরাইল ছাড়াও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এবং তুরস্কের সামরিক সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জায়গা পুরোপুরি ইসরাইল নিতে পারবে এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই এবং রিয়াদকে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।

সৌদি আরব ও ইসরাইলের প্রকাশ্য সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সবচেয়ে বড় বাধা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়টি। সৌদি নেতৃত্ব ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতিকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রধান শর্ত হিসেবে বারবার তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, এ বিষয়ে ইসরাইলের রাজনৈতিক অবস্থান দুই পক্ষের দূরত্ব বজায় রেখেছে এবং অভ্যন্তরীণ জনমতের বিষয়টিও রিয়াদকে বিবেচনায় রাখতে হয়। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে সীমিত বা পরোক্ষ সহযোগিতা বাড়লেও তা দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্কে রূপ নেওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই।