ঢাকা ০১:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

যোগদানের ১৭ দিন পর কার্যালয়ে চুয়েট ভিসি, তালা খুলল কে?

ক্যাম্পাস ডেস্ক: শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মুখে দীর্ঘ ১৭ দিন পর চট্টগ্রাম প্রকৌশل ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রশাসনিক কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। নির্ধারিত অফিস সময় শুরু হওয়ার আগেই ছাত্রদলের কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান নেতাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ক্যাম্পাসে আসেন। নতুন উপাচার্যের এই আকস্মিক প্রবেশকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে তিনি ইতোমধ্যে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন।

এর আগে গত একুশ সেপ্টেম্বর আগের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করার পর অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই পরিবর্তনের প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষার্থীরা ওই দিন রাতেই প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং পরদিন থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন শুরু করেন। এছাড়া সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এসব ঘটনার জད་রে বিশ্ববিদ্যালয়টির সামগ্রিক শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল।

কার্যালয়ে প্রবেশের সময় প্রশাসনিক ভবনে তালা থাকার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহོল থেকে নানা তথ্য পাওয়া গেছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, নতুন উপাচার্য নিজেই তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন। অন্যদিকে উপাচার্য দাবি করেছেন যে তিনি আসার আগেই শিক্ষার্থীরা তালা খুলে দিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছাত্রদলপন্থি আট থেকে দশজন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী উপাচার্যের সঙ্গে প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করেছিলেন।

এ বিষয়ে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ জানিয়েছেন, উপাচার্য ক্যাম্পাসে আসার খবর শুনে তারা সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন যে প্রশাসনিক ভবনের তালা কর্মচারীরা খুলেছিলেন এবং তারা অনেক পরে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে যান। এদিকে কার্যালয়ে এসে উপাচার্য বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও দপ্তর প্রধানদের আমন্ত্রণ জানিয়ে বৈঠক করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী করণীয় ঠিক করার উদ্যোগ নেন।

নবনিযুক্ত উপাচার্যের কার্যালয়ে বসার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে চুয়েট প্রশাসন স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার চেষ্টা করছে। তবে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একটি অংশের চলমান আন্দোলন এবং অসন্তোষের কারণে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি শান্ত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়টির সার্বিক সংকট নিরসনে এবং শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় সচল করতে এই নতুন পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

জনপ্রিয়

বিমানবন্দরে বিশ্বজয়ী হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরাকে সংবর্ধনা

যোগদানের ১৭ দিন পর কার্যালয়ে চুয়েট ভিসি, তালা খুলল কে?

প্রকাশিত ১২:০৭:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

ক্যাম্পাস ডেস্ক: শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মুখে দীর্ঘ ১৭ দিন পর চট্টগ্রাম প্রকৌশل ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রশাসনিক কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। নির্ধারিত অফিস সময় শুরু হওয়ার আগেই ছাত্রদলের কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান নেতাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ক্যাম্পাসে আসেন। নতুন উপাচার্যের এই আকস্মিক প্রবেশকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে তিনি ইতোমধ্যে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন।

এর আগে গত একুশ সেপ্টেম্বর আগের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করার পর অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই পরিবর্তনের প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষার্থীরা ওই দিন রাতেই প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং পরদিন থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন শুরু করেন। এছাড়া সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এসব ঘটনার জད་রে বিশ্ববিদ্যালয়টির সামগ্রিক শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল।

কার্যালয়ে প্রবেশের সময় প্রশাসনিক ভবনে তালা থাকার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহོল থেকে নানা তথ্য পাওয়া গেছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, নতুন উপাচার্য নিজেই তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন। অন্যদিকে উপাচার্য দাবি করেছেন যে তিনি আসার আগেই শিক্ষার্থীরা তালা খুলে দিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছাত্রদলপন্থি আট থেকে দশজন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী উপাচার্যের সঙ্গে প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করেছিলেন।

এ বিষয়ে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ জানিয়েছেন, উপাচার্য ক্যাম্পাসে আসার খবর শুনে তারা সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন যে প্রশাসনিক ভবনের তালা কর্মচারীরা খুলেছিলেন এবং তারা অনেক পরে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে যান। এদিকে কার্যালয়ে এসে উপাচার্য বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও দপ্তর প্রধানদের আমন্ত্রণ জানিয়ে বৈঠক করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী করণীয় ঠিক করার উদ্যোগ নেন।

নবনিযুক্ত উপাচার্যের কার্যালয়ে বসার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে চুয়েট প্রশাসন স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার চেষ্টা করছে। তবে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একটি অংশের চলমান আন্দোলন এবং অসন্তোষের কারণে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি শান্ত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়টির সার্বিক সংকট নিরসনে এবং শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় সচল করতে এই নতুন পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।