ঢাকা ০২:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

ভোটার তালিকায় ১৩ কোটি নাম বাদ, বিতর্কে মোদি সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমের সময় প্রায় তেরো কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র অসন্তোষ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং বর্তমান নরেন্দ্র মোদি সরকারের কার্যপদ্ধতি নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে। বিরোধী নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের অস্বীকৃতি এই বিতর্ককে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

দ্য ওয়্যারের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে নির্বাচন কমিশন প্রটোকল ও শিষ্টাচারের কথা বলে বিরোধী নেতাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এড়িয়ে গেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্দিষ্ট প্রতিনিধি পাঠানোর পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি বৈঠকের জন্য নানা শর্তও জুড়ে দিয়েছিলেন। বিরোধী দলের প্রধান ও প্রায় তিনশত সংসদ সদস্য আন্দোলনরত অবস্থায় থাকলেও কমিশন সরাসরি কথা না বলে পুলিশের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বলে। এতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা নিয়ে তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সমালোচকরা।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে ভোটার তালিকা থেকে এই বিশাল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়ার বিষয়টি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে নারী, মুসলিম এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। সমালোচকদের দাবি অনুযায়ী এই ধরনের ঘটনা শুধু শাসক দলের নির্বাচনি হিসাব-নিকাশের বিষয় নয় বরং একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক অধিকার হরণের আশঙ্কা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের এমন বিতর্কিত আচরণ প্রতিষ্ঠানটির স্বায়ত্তশাসন ও ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে নতুন করে ভাবাচ্ছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ আমলে না নিয়ে উল্টো তাদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার ফলে সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় প্রকৃত কতটি নাম বাদ পড়েছে এবং এর নেপথ্য কারণ ও প্রভাবিত জনগোষ্ঠীর সঠিক চিত্র পেতে নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে।

জনপ্রিয়

এআই নিয়ন্ত্রণে ‘ইমার্জেন্সি ব্রেক’ চান মাইক্রোসফট প্রধান নাদেলা

ভোটার তালিকায় ১৩ কোটি নাম বাদ, বিতর্কে মোদি সরকার

প্রকাশিত ১২:৩৭:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমের সময় প্রায় তেরো কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র অসন্তোষ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং বর্তমান নরেন্দ্র মোদি সরকারের কার্যপদ্ধতি নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে। বিরোধী নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের অস্বীকৃতি এই বিতর্ককে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

দ্য ওয়্যারের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে নির্বাচন কমিশন প্রটোকল ও শিষ্টাচারের কথা বলে বিরোধী নেতাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এড়িয়ে গেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্দিষ্ট প্রতিনিধি পাঠানোর পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি বৈঠকের জন্য নানা শর্তও জুড়ে দিয়েছিলেন। বিরোধী দলের প্রধান ও প্রায় তিনশত সংসদ সদস্য আন্দোলনরত অবস্থায় থাকলেও কমিশন সরাসরি কথা না বলে পুলিশের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বলে। এতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা নিয়ে তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সমালোচকরা।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে ভোটার তালিকা থেকে এই বিশাল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়ার বিষয়টি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে নারী, মুসলিম এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। সমালোচকদের দাবি অনুযায়ী এই ধরনের ঘটনা শুধু শাসক দলের নির্বাচনি হিসাব-নিকাশের বিষয় নয় বরং একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক অধিকার হরণের আশঙ্কা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের এমন বিতর্কিত আচরণ প্রতিষ্ঠানটির স্বায়ত্তশাসন ও ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে নতুন করে ভাবাচ্ছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ আমলে না নিয়ে উল্টো তাদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার ফলে সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় প্রকৃত কতটি নাম বাদ পড়েছে এবং এর নেপথ্য কারণ ও প্রভাবিত জনগোষ্ঠীর সঠিক চিত্র পেতে নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে।