ঢাকা ০৩:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

এনসিটি: চুক্তি বাতিলের দাবিতে গণঅনশন

সারাদেশ ডেস্ক: চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনাল টার্মিনাল বা এনসিটি পরিচালনার জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাতিলের দাবিতে গণঅনশন কর্মসূচি পালন করছেন বন্দরের শ্রমিক ও কর্মচারীরা। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরের ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি শুরু হয়। বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যৌথ উদ্যোগে এই আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে। চুক্তির বাতিলের পাশাপাশি শ্রমিকদের চাকরির পূর্ণ নিশ্চয়তা দাবি করা হয়েছে এই আন্দোলন থেকে।

এর আগে ঢাকায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ অডিটোরিয়ামে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে এই কনসেশন চুক্তি সই হয়েছিল। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মনিরুজ্জামান এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান ঈসা কাজিম এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই সেদিন বিকেলে বন্দর ভবনের মূল প্রবেশপথের কাছে বিক্ষোভ মিছিল থেকে অনশন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা।

গণঅনশন চলাকালে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন যে আলোচনার জন্য সরকারকে সময় দেওয়া হলেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, যার ফলে তারা অনশনে বসতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে জিবুতিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে এবং তারা এনসিটির চুক্তিও বাতিল চান। পরিষদের আরেক নেতা মো. ইব্রাহিম খোকন জানান যে এই চুক্তির বিষয়বস্তু শ্রমিক বা দেশের জনগণ কারোই জানা নেই।

চলমান এই গণঅনশন কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা সংহতি জানিয়ে অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অশোক সাহা, বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম উদ্দিন সেলিম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বন্দর রক্ষা সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবীর মিন্টু এবং বাসদ নেতা আল কাদেরী জয়ও এই কর্মসূচিতে যোগ দেন।

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে সরকার দ্রুত আলোচনার উদ্যোগ না নিলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দর টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তি ঘিরে সৃষ্ট এই অসন্তোষ বন্দর কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শ্রমিকদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

জনপ্রিয়

টিআইকে নীতি: ৯৯.৯৯% দিয়ে খবর নয়

এনসিটি: চুক্তি বাতিলের দাবিতে গণঅনশন

প্রকাশিত ০১:৫২:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

সারাদেশ ডেস্ক: চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনাল টার্মিনাল বা এনসিটি পরিচালনার জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাতিলের দাবিতে গণঅনশন কর্মসূচি পালন করছেন বন্দরের শ্রমিক ও কর্মচারীরা। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরের ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি শুরু হয়। বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যৌথ উদ্যোগে এই আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে। চুক্তির বাতিলের পাশাপাশি শ্রমিকদের চাকরির পূর্ণ নিশ্চয়তা দাবি করা হয়েছে এই আন্দোলন থেকে।

এর আগে ঢাকায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ অডিটোরিয়ামে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে এই কনসেশন চুক্তি সই হয়েছিল। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মনিরুজ্জামান এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান ঈসা কাজিম এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই সেদিন বিকেলে বন্দর ভবনের মূল প্রবেশপথের কাছে বিক্ষোভ মিছিল থেকে অনশন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা।

গণঅনশন চলাকালে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন যে আলোচনার জন্য সরকারকে সময় দেওয়া হলেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, যার ফলে তারা অনশনে বসতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে জিবুতিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে এবং তারা এনসিটির চুক্তিও বাতিল চান। পরিষদের আরেক নেতা মো. ইব্রাহিম খোকন জানান যে এই চুক্তির বিষয়বস্তু শ্রমিক বা দেশের জনগণ কারোই জানা নেই।

চলমান এই গণঅনশন কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা সংহতি জানিয়ে অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অশোক সাহা, বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম উদ্দিন সেলিম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বন্দর রক্ষা সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবীর মিন্টু এবং বাসদ নেতা আল কাদেরী জয়ও এই কর্মসূচিতে যোগ দেন।

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে সরকার দ্রুত আলোচনার উদ্যোগ না নিলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দর টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তি ঘিরে সৃষ্ট এই অসন্তোষ বন্দর কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শ্রমিকদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।