অপরাধ ডেস্ক: কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমীনকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার রাজু তার সঙ্গে শেষ যোগাযোগের বিষয়ে নানা তথ্য দিয়েছেন। কক্সবাজারের কলাতলী এলাকা থেকে আটকের পূর্বে গণমাধ্যমের কাছে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন এই তরুণ। তাজমীনের সঙ্গে প্রায় ছয় মাসের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তাকে বিয়ে করার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।
রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সকালে তাজমীন কক্সবাজার বাস টার্মিনালে পৌঁছানোর পর তাকে নিয়ে কলাতলীর একটি রিসোর্টে একদিন অবস্থান করেন। পরিবারের সদস্যদের বারবার ফোন আসার কারণে তাজমীনকে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। বাড়িতে গিয়ে প্রধান ফটক বন্ধ পাওয়ার পর তাকে দরজার সামনে অপেক্ষা করতে বা অন্য কারও ফোন থেকে যোগাযোগ করতে বলেন রাজু।
তিনি আরও দাবি করেন, তাজমীন তাকে শেষ মেসেজে লিখেছিলেন যে তিনি এক আঙ্কেলের বাসায় যাচ্ছেন এবং সেখান থেকে পরের দিন বাড়ি ফিরবেন। এর আগে ভিডিও কলে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তাজমীনকে দেখে তাকে বকাঝকা করে নেমে যেতে বলেছিলেন রাজু। পরবর্তীতে তাজমীন কল কেটে লাইভ লোকেশন বন্ধ করে দেন এবং আর যোগাযোগ করতে পারেননি।
পরবর্তী সময়ে এক বন্ধুর কাছ থেকে স্কুলছাত্রী তাজমীনের মৃত্যুর খবর পান বলে দাবি করেন রাজু। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন তিনি। এদিকে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমীনের সঙ্গে সম্পর্কের কথা স্বীকার করা রাজুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
এর আগে কুমিল্লার সদর দক্ষিণে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী তাজমীনকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে সুমন মিয়া নামের এক সিএনজিচালককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ৮ অক্টোবর লালমাই উপজেলার একটি ধানখেত থেকে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন একা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
































