জাতীয় ডেস্ক: আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি আয়োজিত অনুষ্ঠানে কন্যাশিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সমাজের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল গার্ল চাইল্ড অ্যাডভোকেসি ফোরাম যৌথভাবে এই আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি এমন একটি দেশ গড়ার কথা বলেন যেখানে প্রতিটি শিশু নিরাপদে জন্ম নিয়ে নির্ভয়ে বেড়ে উঠতে পারবে।
বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন যে, কন্যাশিশুদের বিশ্বজয়ের জন্য সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি এবং এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক দক্ষতা। তিনি সমাজ থেকে বাল্যবিয়ে ও বৈষম্য দূর করার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে বলেন যে, নারী ও কন্যাশিশুকে পেছনে রেখে কোনো জাতি কখনো সমৃদ্ধির শিখরে পৌঁছাতে পারে না। সমাজে এই পরিবর্তন আনতে ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, কাজী, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের বিশেষ ভূমিকা পালন করতে হবে। এছাড়া তিনি শিশু জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
শিশুর নিরাপদ বেড়ে ওঠা, সুস্বাস্থ্য, মানসম্মত শিক্ষা এবং নিজস্ব প্রতিভা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করাকে নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রপ্রধান। অভিভাবকদের প্রতি তাঁর বিশেষ বার্তা ছিল, কন্যাশিশুকে যেন বোঝা না ভেবে সম্ভাবনার উৎস হিসেবে দেখা হয় এবং তাদের শিক্ষার পেছনে বিনিয়োগ করা হয়। তিনি বলেন, সংসারের চাবির পাশাপাশি মেয়ের নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার চাবিটিও তার হাতে তুলে দিতে হবে এবং ছেলেদের ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের সম্মান করতে শেখাতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন। আলোচনা সভার পর রাষ্ট্রপতি শিশু জাদুঘরের আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। সভাপতির বক্তব্যে ও রাষ্ট্রপতির কথায় কন্যাশিশুদের অধিকার সচেতন হওয়ার এবং নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের প্রতিটি কন্যাশিশুর জন্য একটি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও আলোকিত ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা।






































