পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসের লেকে ১৪টি পাতি সরালি হাঁস অবমুক্ত করেছেন পাখিপ্রেমীরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিউনিটির উদ্যোগে এসব হাঁস অবমুক্ত করা হয়। বন্য পাখি সংরক্ষণ ও পাখি শিকার বন্ধে সচেতনতা তৈরির অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অবমুক্ত করার পর হাঁসগুলোকে লেকের পানিতে বিচরণ করতে দেখা যায়। উন্মুক্ত পরিবেশে পাখিগুলোর এমন স্বাভাবিক বিচরণ উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের সৃষ্টি করে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক এবং নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিউনিটির অন্যতম সদস্য ড. নাজমুল ইসলাম, রসায়ন বিভাগের শিক্ষক মো: বায়েজিদ হাসান সহ
নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিউনিটি পাবনার বিভিন্ন দায়িত্বশীলবর্গ ও সহযোগী সদস্যরা।
সংগঠনের সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাজমুল ইসলাম বলেন, “শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন জলাভূমিতে পরিযায়ী ও স্থানীয় পাখির আনাগোনা বাড়ে। কিন্তু এ সময় কিছু অসাধু ব্যক্তি পাখি শিকার করে বিক্রি করেন, যা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য উদ্বেগজনক। প্রকৃতির এসব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যখন আমরা নিজেদের ফুড মেনুতে নিয়ে আসি এর চেয়ে ন্যাক্কারজনক বা ধিক্কারজনক কাজ আর হতে পারে না এগুলা আমাদের জন্য, প্রাণ ও প্রকৃতির জন্য ধ্বংসাত্মক একটা কাজ। পাখি ও তাদের আবাসস্থল রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিকার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।”
নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ বলেন , “প্রতি বছর শীত মৌসুমে পাখি শিকার ও বিক্রির প্রবণতা দেখা যায়। একদিকে কিছু মানুষ পাখি শিকার করে, অন্যদিকে ক্রেতা থাকায় এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে। বন্য পাখি কেনা থেকে বিরত থাকা, পাখি শিকার বন্ধ করা এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বন্য পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সংগঠনটির সদস্যরা।
































