জাতীয় ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট তীব্র জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সিঙ্গাপুরভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেডের কাছ থেকে ৯ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সাম্প্রতিক সভায় এই এলএনজি আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, চলতি বছর থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত এই গ্যাস সরবরাহ করা হবে এবং এর দর নির্ধারিত হয়েছে জেকেএম সূচক থেকে প্রতি এমএমবিটিইউতে শূন্য দশমিক ১০ ডলার কম। দুই পক্ষের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এই কার্গোর সংখ্যা কমবেশি করার সুযোগ রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার সভায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আরও দুটি এলএনজি আমদানির প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন পেয়েছে। জি টু জি পদ্ধতি এবং সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জরুরি ভিত্তিতে এই গ্যাস সংগ্রহ করা হবে।
জ্বালানি আমদানির পাশাপাশি সরকারি ক্রয় কমিটির সভায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের একাধিক চুক্তির ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। নির্মাণ কাজের মূল চুক্তির মূল্যের সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থ যোগ হয়ে এর ব্যয় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। জাপানি, কোরিয়ান ও বাংলাদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত কনসোর্টিয়াম এই প্রকল্পের নানা উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত রয়েছে। এর আগে নির্ধারিত সময়ে টার্মিনালের বড় অংশের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পথে থাকলেও প্রশাসনিক ও আনুষঙ্গিক কারণে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় ফের বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের প্রায় শতভাগ নির্মাণকাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী ১৬ ডিসেম্বর এটি আংশিকভাবে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এর মধ্যেই তৃতীয় সংশোধনের মাধ্যমে প্রকল্পটির মেয়াদ ও ব্যয় আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার কোটির বেশি। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সরকারের পক্ষ থেকে দেশের খাদ্য ও কৃষি খাতের চাহিদা পূরণে সার ও চিনি আমদানির বিভিন্ন প্রস্তাবও এই সভায় পাস করা হয়েছে।






































