জাতীয় ডেস্ক: দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে খুব শীঘ্রই নিজস্ব আবাসিক হাই কমিশন খোলার ঘোষণা দিয়েছে কেনিয়া। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে উভয় দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও সহজ ও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম। অন্যদিকে কেনীয় প্রতিনিধিদলের প্রধান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিষয়ক মহাপরিচালক জোসপাত মাইকারা। এ সময় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পরিধি আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছায়।
বৈঠকে কেনিয়ায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, পাটজাত পণ্য ও কৃষিপণ্যের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলো তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি পরিমাণে সুলভ ও মানসম্মত ওষুধ আমদানির বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে কেনীয়পক্ষ। একই সঙ্গে বাংলাদেশি ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের দেশে আরও বড় পরিসরে বিনিয়োগ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া কেনিয়া তাদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে উচ্চমানের কফি, তুলা, প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং শিমজাতীয় শস্য রপ্তানির প্রস্তাব পেশ করে।
উভয় দেশের মধ্যে ঝুলে থাকা বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার বিষয়ে বৈঠকে ঐকমত্য হয়েছে। এর মধ্যে দ্বৈত করারোপ এড়ানো, বিনিয়োগ সুরক্ষা, ব্লু ইকোনমি এবং চুক্তিভিত্তিক কৃষির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘ ও কমনওয়েলথের মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপারেও উভয় দেশ সম্মত হয়েছে। এই বৈঠকের ধারাবাহিকতায় দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সরকারি সফর বিনিময়ের ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।




































