অর্থনীতি ডেস্ক: বৈশ্বিক বাজারে দেশের চিংড়ি খাতের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রক্রিয়া গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক বিশেষ সংলাপে তিনি উৎপাদক থেকে শুরু করে রপ্তানি পর্যায় পর্যন্ত ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি বা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, মন্টেরে বে অ্যাকোয়ারিয়াম এবং টোটালফুড প্রসেসিং লিমিটেড যৌথভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ সংলাপের আয়োজন করে।
সংলাপে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান যে, চাষের জমির পরিমাণ বেশি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ প্রতিবেশী ভারতের তুলনায় চিংড়ি রপ্তানিতে পিছিয়ে রয়েছে। এই ব্যবধান ঘুচাতে হলে উৎপাদনশীলতা ও পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধির পাশাপাশি পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ বজায় রাখতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত বছর দেশের হিমায়িত মাছ ও চিংড়ি রপ্তানি ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৩০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে জানান যে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত পাঁচশ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের চিংড়ি রপ্তানি করেছে। অথচ ভারতে উৎপাদিত চিংড়ির তুলনায় বাংলাদেশে চাষের জমির প্রাপ্যতা প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি রয়েছে। এই পরিস্থিতিকে তিনি খাতের উৎপাদনশীলতা ও মানোন্নয়নের এক বিশাল সুযোগ হিসেবে গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে উৎপাদন কাঠামোর স্বচ্ছতা এবং শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষার ওপরও জোর দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নির্ধারিত এই কৌশলগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানির বহুমুখী পথ উন্মোচিত হবে।



































