অপরাধ ডেস্ক: সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও সহিংসতার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রিমান্ড শেষ হওয়া দুই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ১৬ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান শুনানি শেষে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন। ডিবি পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পক্ষ থেকে আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়েছিল। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, আসামিদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তাদের পুনরায় রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এর আগে ১২ অক্টোবর আদালত তাদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।
গত ১১ অক্টোবর রাতে রাজধানীর পল্লবী ও বনানীর বাসা থেকে লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ নারায়ন পালকে গ্রেপ্তার করা হয়। পল্লবী থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. আলী আকবার বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারা, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের আওতায় মামলাটি দায়ের করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আসামিরা পল্লবীর বাসায় অবস্থান করে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তহবিল সংগ্রহ ও ডিজিটাল কনটেন্ট প্রচার করতেন। এছাড়া ‘ইউনিটি কেয়ার অ্যান্ড পাবলিক পার্লামেন্ট’ ও ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ এর মতো সংগঠনের মাধ্যমে নানা কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
শুক্রবারের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কাওসার আহমেদ আসামিদের জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষে আইনজীবী মো. আতাউর রহমান খান রুকু ও মো. মশিউর রহমান জামিনের পক্ষে আইনি যুক্তি উপস্থাপন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আতাউর রহমান খান রুকু বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। মামলার এজাহারে আরও দাবি করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আসামিরা দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে কুৎসামূলক প্রচার এবং ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছিলেন।
এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে কাজী গুলশান আরা দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাসহ গণভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সহযোগীদের নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ গঠন করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ও দাঙ্গা সৃষ্টির চেষ্টা চালান। এছাড়া ‘আজকাল ডটকম’ নামক পেজ এবং ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। এই মামলায় তাদের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও একশজনকে আসামি করা হয়েছে।



































