জাতীয় ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ক্ষমতার রাজনীতির প্রভাবে রাষ্ট্রসংস্কার ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সম্ভাবনা দৃশ্যত জিম্মিদশায় আবদ্ধ বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গত ১৭ অক্টোবর জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের এক বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এই উদ্বেগের কথা জানান। রক্তস্নাত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা আমলাতান্ত্রিক দুষ্টচক্রের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিগত গণঅভ্যুত্থানের পর সংবিধানসহ বিভিন্ন খাতের সংস্কারের জন্য একাধিক কমিশন গঠন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে ৮৬টি সুপারিশ নিয়ে প্রণীত হয় ‘জুলাই জাতীয় সনদ’। প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় গত বছরের ১৭ অক্টোবর এই সনদ গৃহীত হয় এবং পরবর্তীতে গণভোটের মাধ্যমে তা অনুমোদিত হয়।
তবে নির্বাচনে জয়ী হয়েও বিজয়ী দলের সংসদ সদস্যরা প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি বলে অভিযোগ করেছে টিআইবি। সংস্থাটির মতে, এর ফলে রাষ্ট্রসংস্কারের উদ্যোগ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এবং সংবিধান সংশোধন এখন ক্ষমতাসীন জোটের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী জোটও জনস্বার্থের পরিবর্তে দলীয় রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের রাজনীতিতে ব্যস্ত রয়েছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
টিআইবি আরও জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের জারিকৃত অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক অধ্যাদেশসমূহ বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। রাজনৈতিক দল ও আমলাতন্ত্র জুলাই অভ্যুত্থান থেকে শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় ক্ষমতার হাতবদলের মাধ্যমে দখলবাজি ও দলীয়করণের প্রবণতা বেড়েছে। এসব কারণে জুলাই আন্দোলনের মূল অভীষ্ট একটি দায়বদ্ধ সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ রুদ্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।



































