জাতীয় ডেস্ক: রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক পার্কে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে ব্যতিক্রমী পূজামণ্ডপ। বৈদিক আধ্যাত্মিকতা, নদীমাতৃক বাংলার রূপ এবং দেবী দুর্গার মাতৃরূপের সমন্বয়ে সাজানো এই আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জলজ’। ঋগ্বেদের সৃষ্টির রূপক ও কারণসমুদ্রের আবহকে শিল্পের ভাষায় ফুটিয়ে তুলতে এই নান্দনিক মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে। মণ্ডপের স্থপতি ও শিল্পীরা পরিবেশবান্ধব লোকজ কারুশিল্পের মাধ্যমে পুরো অবয়বটি গড়ে তুলেছেন।
মণ্ডপটি নির্মাণে বাঁশ, বেত, চট ও প্রাকৃতিক তন্তুর মতো ৩৬ ধরনের স্বতন্ত্র উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশ ও বুননশৈলী দিয়ে ঢেউখেলানো বক্ররেখীয় কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যা বিশাল জলতরঙ্গের অনুভূতি দেয়। এছাড়া উপকূলীয় অঞ্চল থেকে সংগৃহীত ১৩ ধরনের বিলুপ্তপ্রায় বাঁশের চাই বা দুয়াইর মণ্ডপের ছাদের চাঁদোয়ায় ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই নান্দনিক আয়োজনের নেপথ্যে কাজ করেছেন স্থপতি অমিতি কুন্ডু ও শিল্পী-গবেষক পার্থপ্রতিম সাহা।
এই মণ্ডপের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো ২৪ ফুট ব্যাসের একটি গতিশীল শিল্পকলা বা ‘কাইনেটিক আর্ট’। অবিরাম ঘূর্ণায়মান এই বৃত্তাকার কাঠামোর জলপ্রপাতসদৃশ জলপর্দা ভেদ করে দেবী দুর্গার সৌম্য প্রতিমা দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। দর্শনার্থীদের প্রবেশপথটি বিমূর্ত পদ্মরূপী স্থাপত্য এবং শামুক ও শঙ্খের আদলে তৈরি করা হয়েছে। মাথার ওপর কল্পিত জলাধারের আবহ দর্শকদের একটি মায়াবী জলজ জগতের গভীরে নিয়ে যায়।
‘জলজ’ কেবল ধর্মীয় উদযাপনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট ও পরিবেশ দূষণের বার্তা দেয়। নদী দখল ও জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে জল রক্ষা করার সামাজিক দায়বদ্ধতা এই আয়োজনের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। স্থানীয় কারিগরদের সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি পথশিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে শিল্পচর্চাকে সবার জন্য উন্মুক্ত করার প্রচেষ্টা রাখা হয়েছে। সম্প্রতি মন্দিরে মন্দিরে কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে।


































