ঢাকা ০২:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বঙ্গভঙ্গ দিবসে বিএনপির কর্মসূচি না থাকায় জেডিপির ক্ষোভ Logo সতর্ক করার পরও চলছিল কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্ট Logo দূর্গাপূজা: শেরপুরের নাকুগাঁও স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি ৯ দিন বন্ধ Logo মার্তিনেসের ঘটনায় কোনো ‘নাটক হয়নি’ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে Logo ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সরকারি উদ্যোগে ‘নির্ভরতা কমিয়ে’ সম্মিলিতভাবে কাজ করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর Logo শিশুকে শাসনের নামে নির্যাতন নয় Logo লালন ফকির : জীবন ও দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা Logo কাজ শেষ করতে অন্য ওয়ালেট থেকে ডিজিটাল মুদ্রা ‘চুরি’ করল এআই Logo ‘আগের হামলার পরও সাংবাদিক আলিফের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া উদ্বেগজনক’ Logo নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা আইনে গ্রেপ্তার অভিজিৎ দীপকে, নেহা বোরা মুক্ত

‘আগের হামলার পরও সাংবাদিক আলিফের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া উদ্বেগজনক’

অপরাধ ডেস্ক: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। গত ১৬ অক্টোবর গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংস্থাটি এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরেও এই সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছিলেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। আগের ওই হামলার পর তাঁর পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে আসক।

বিবৃতিতে বলা হয়, নিহত লুৎফুজ্জামান আলিফ বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ১৫ অক্টোবর রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের তেলনজিয়া এলাকায় তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একজন সাংবাদিককে এভাবে গুলি করে হত্যা করা কেবল একটি জীবন কেড়ে নেওয়া নয়, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করতে গিয়ে সাংবাদিকদের সহিংসতার শিকার হওয়া রোধ করা রাষ্ট্রের অবশ্যপালনীয় দায়িত্ব।

সংস্থাটির মতে, সাংবাদিকদের ওপর চালানো সহিংসতা ও এসব হত্যাকাণ্ডের বিচারহীনতা বজায় থাকলে সমাজে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়। এর ফলে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হয় এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংবিধান ও আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী নাগরিকদের জীবনের অধিকার এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সুরক্ষিত রয়েছে। এসব অধিকারের পূর্ণ সুরক্ষার জন্য সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা জরুরি।

আসকের নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কোনো ধরনের অবহেলা বা প্রভাবের সুযোগ থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। সাংবাদিকদের সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপদ পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। স্বাধীন সাংবাদিকতা রক্ষা করা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান শর্ত বলে জানিয়েছে আসক।

জনপ্রিয়

বঙ্গভঙ্গ দিবসে বিএনপির কর্মসূচি না থাকায় জেডিপির ক্ষোভ

‘আগের হামলার পরও সাংবাদিক আলিফের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া উদ্বেগজনক’

প্রকাশিত ১২:৩৭:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

অপরাধ ডেস্ক: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। গত ১৬ অক্টোবর গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংস্থাটি এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরেও এই সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছিলেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। আগের ওই হামলার পর তাঁর পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে আসক।

বিবৃতিতে বলা হয়, নিহত লুৎফুজ্জামান আলিফ বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ১৫ অক্টোবর রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের তেলনজিয়া এলাকায় তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একজন সাংবাদিককে এভাবে গুলি করে হত্যা করা কেবল একটি জীবন কেড়ে নেওয়া নয়, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করতে গিয়ে সাংবাদিকদের সহিংসতার শিকার হওয়া রোধ করা রাষ্ট্রের অবশ্যপালনীয় দায়িত্ব।

সংস্থাটির মতে, সাংবাদিকদের ওপর চালানো সহিংসতা ও এসব হত্যাকাণ্ডের বিচারহীনতা বজায় থাকলে সমাজে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়। এর ফলে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হয় এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংবিধান ও আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী নাগরিকদের জীবনের অধিকার এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সুরক্ষিত রয়েছে। এসব অধিকারের পূর্ণ সুরক্ষার জন্য সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা জরুরি।

আসকের নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কোনো ধরনের অবহেলা বা প্রভাবের সুযোগ থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। সাংবাদিকদের সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপদ পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। স্বাধীন সাংবাদিকতা রক্ষা করা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান শর্ত বলে জানিয়েছে আসক।