ঢাকা ০৩:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সরকারি উদ্যোগে ‘নির্ভরতা কমিয়ে’ সম্মিলিতভাবে কাজ করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক: ডেঙ্গু মোকাবিলায় এককভাবে সরকারের প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর না করে দেশের সব নাগরিককে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল পরিদর্শনের অংশ হিসেবে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল এবং রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ পরিদর্শনকালে তিনি এই তাগিদ দেন। সরকারের পাশাপাশি জনসাধারণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়া মশাবাহিত এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের নিজেদের চারপাশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এগিয়ে আসার কথা বলেন তিনি।

পরিদর্শনের শুরুতে সকালে গুলশানের বাসা থেকে বের হয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে যান এবং সেখানকার ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র, অস্ত্রোপচার কক্ষ ও ল্যাবরেটরি ঘুরে দেখে সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। হাসপাতালটির পরিবেশ উন্নয়নে কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে গিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

তিনি জানান যে সাধারণত নভেম্বর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি থাকে এবং এই সময়ে বহু মানুষ আক্রান্ত ও মৃত্যুবরণ করেন। ডেঙ্গু মোকাবেলার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা বলে তিনি উল্লেখ করেন। ঢাকা শহরের দুই থেকে আড়াই কোটি বাসিন্দার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই প্রশাসন বা সংস্থার ওপর এককভাবে নির্ভর না করে নাগরিকদের নিজেদের বাড়ির আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব নিতে হবে।

যত্রতত্র ময়লা ফেলা এবং নির্ধারিত স্থানে রাখা ডাস্টবিন ও গাছের চারা চুরির ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে তিনি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। এ ছাড়াও রাজধানীর তাপমাত্রা ও সবুজের ঘাটতি কমাতে শিক্ষার্থীদের জন্মদিনে একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, গাছপালা ও খোলা জায়গা কমে যাওয়ায় ঢাকায় গরমের অনুভূতি বেড়েছে এবং গাছ লাগালে শহরের তাপমাত্রা কিছুটা কমানো সম্ভব। ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা এবং সবুজায়ন এই তিন খাতে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি বাসযোগ্য নগর গড়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জনপ্রিয়

আখাউড়ায় মন্দিরে চুরি, পণ্য উদ্ধার করে বুঝিয়ে দিলো পুলিশ

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সরকারি উদ্যোগে ‘নির্ভরতা কমিয়ে’ সম্মিলিতভাবে কাজ করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত ০১:৩৭:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: ডেঙ্গু মোকাবিলায় এককভাবে সরকারের প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর না করে দেশের সব নাগরিককে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল পরিদর্শনের অংশ হিসেবে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল এবং রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ পরিদর্শনকালে তিনি এই তাগিদ দেন। সরকারের পাশাপাশি জনসাধারণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়া মশাবাহিত এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের নিজেদের চারপাশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এগিয়ে আসার কথা বলেন তিনি।

পরিদর্শনের শুরুতে সকালে গুলশানের বাসা থেকে বের হয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে যান এবং সেখানকার ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র, অস্ত্রোপচার কক্ষ ও ল্যাবরেটরি ঘুরে দেখে সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। হাসপাতালটির পরিবেশ উন্নয়নে কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে গিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

তিনি জানান যে সাধারণত নভেম্বর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি থাকে এবং এই সময়ে বহু মানুষ আক্রান্ত ও মৃত্যুবরণ করেন। ডেঙ্গু মোকাবেলার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা বলে তিনি উল্লেখ করেন। ঢাকা শহরের দুই থেকে আড়াই কোটি বাসিন্দার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই প্রশাসন বা সংস্থার ওপর এককভাবে নির্ভর না করে নাগরিকদের নিজেদের বাড়ির আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব নিতে হবে।

যত্রতত্র ময়লা ফেলা এবং নির্ধারিত স্থানে রাখা ডাস্টবিন ও গাছের চারা চুরির ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে তিনি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। এ ছাড়াও রাজধানীর তাপমাত্রা ও সবুজের ঘাটতি কমাতে শিক্ষার্থীদের জন্মদিনে একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, গাছপালা ও খোলা জায়গা কমে যাওয়ায় ঢাকায় গরমের অনুভূতি বেড়েছে এবং গাছ লাগালে শহরের তাপমাত্রা কিছুটা কমানো সম্ভব। ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা এবং সবুজায়ন এই তিন খাতে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি বাসযোগ্য নগর গড়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।