রাজনীতি ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি তার সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মোহাম্মদপুরের ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজসহ রাজধানীজুড়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী তিনি সকাল থেকে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টায় মোট তেরোটি বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এই পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন এলাকার অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ঘাটতি দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ ছাড়াও তিনি মিরপুর-১০ নম্বরে হকারমুক্ত ফুটপাথ পরিদর্শন করেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি কোয়ার্টার ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। তিনি উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার, সরকারি বাংলা কলেজ, শিশু হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালসহ বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখেন। এসব স্থানে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা তাকে দেখে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং তার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।
ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে তরুণরা বড় পরিবর্তন এনেছে যা ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। তবে শুধু আন্দোলন করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না বরং একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তাদের দেশ পুনর্গঠনেও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে শুধু সরকারের একার পক্ষে দেশকে বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব নয় এবং এজন্য তরুণদের নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে।
মিরপুর বাংলা কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বায়ু দূষণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন। তিনি জানান যে ঢাকার বাতাসের মান প্রায়ই বিশ্বের শীর্ষে থাকে যা অত্যন্ত বিব্রতকর এবং এর ফলে শিশুরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। তিনি জাপানের উদাহরণ দিয়ে জানান যে শুধু পরিচ্ছন্নতা কর্মী নয় বরং মানুষের ময়লা না ফেলার অভ্যাস পরিবেশ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখে।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে, তাই রোগ প্রতিরোধে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখাই প্রধান কাজ। তিনি বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের আরও বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন যে তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য দেশ গড়ে তোলা সম্ভব। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হিসেবে এই দেশের দায়িত্ব তরুণদেরই নিতে হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।





































