প্রবাস ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো সিটি থেকে এনামুল হক এনাম হক নামের এক বাংলাদেশি অভিবাসী নাগরিককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সুদীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই দেশটিতে অবস্থান করছিলেন। আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক ও অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী এই আটকের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। কুমিল্লার স্থায়ী বাসিন্দা এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ এই প্রবাস জীবনে তার কোনো ধরনের গ্রিনকার্ড বা আইনি বৈধতা অর্জন করা সম্ভব হয়নি।
বাফেলো সিটি থেকে আটক হওয়া ৬২ বছর বয়সী এই প্রবাসী দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ থেকে জনপ্রিয় তারকা শিল্পীদের স্পন্সর করে দেশটিতে নিয়ে আসতেন এবং বড় আয়োজন করতেন। তার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া বহু শিল্পী পরবর্তীতে গ্রিনকার্ড এমনকি মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করতে সক্ষম হন। অথচ নানা কারণে নিজ উদ্যোগের এই আয়োজক নিজে কখনোই আইনি বৈধতা বা নাগরিকত্ব অর্জনে সফল হতে পারেননি। অভিবাসন সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘন করা ছাড়া তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো অপরাধমূলক কাজের রেকর্ড নেই বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নিউ ইয়র্কের বাফেলো অঞ্চল থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে চার শতাধিক অবৈধ অভিবাসীর পাশাপাশি বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকও এই অভিযراনের শিকার হয়েছেন। মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের ধারাবাহিক এই কড়াকড়ির ফলে দেশটিতে দীর্ঘকাল ধরে বসবাসরত নথিপত্রহীন প্রবাসীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে বসবাস করেও বৈধতা না পাওয়ার বিষয়টি এই ঘটনার মধ্য দিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভিবাসন নীতি এবং কঠোর বিধিবিধানের বাধার মুখে পড়ে বৈধ কাগজবিহীন প্রবাসীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ ৩৪ বছর প্রবাস জীবন কাটানোর পরও আইনি জটিলতার কারণে এই বাংলাদেশির গ্রেপ্তার হওয়া অভিবাসী মহτη গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তার দীর্ঘ অবদান থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনের কঠোর প্রয়োগের মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। সংশ্লিষ্ট অভিবাসন আইনজীবীরা এই পুরো পরিস্থিতির ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।






































