ঢাকা ১০:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ঢাকেশ্বরী পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী Logo চীনে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসতে পারেন পুতিন, ট্রাম্প ও শি Logo এআইইউবিতে কম্পিউটিং সম্মেলনে ১৭ দেশের নয় শতাধিক গবেষণাপত্র Logo আসুন সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশটিকে গড়ি: প্রধানমন্ত্রী Logo সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডির চুক্তি বাতিল Logo ফটোগ্রাফিতে আগ্রহীদের জন্য অপো নিয়ে এলো ‘মেক ইওর পূজা মোমেন্ট উইথ অপো’ কনটেস্ট Logo এআইয়ে কাজ হারানোদের অনুদান দেবে অ্যানথ্রপিক Logo দেশবাসী তাকিয়ে আছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কবে পদত্যাগ করবেন: নাহিদ Logo প্রাণের খোঁজে প্রথম মঙ্গলের চাঁদে যাচ্ছে জাপানি মহাকাশযান Logo আখাউড়ার ২৯ মন্দিরে পূজা উপলক্ষে উপহার বিতরণ

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: প্রাণ বাঁচাতে দোতলা থেকে লাফ দেন শায়ান দম্পতি

সারাদেশ ডেস্ক: কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের ইনানী এলাকায় অবস্থিত টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সময় জীবন বাঁচাতে দোতলা থেকে লাফ দিয়ে প্রাণে বেঁচেছেন শায়ান উল মান্নান ও তার স্ত্রী ফাহমিদা আক্তার। সম্প্রতি ছুটির আনন্দ উপভোগ করতে ওই রিসোর্টে বেড়াতে গিয়ে তারা এই মারাত্মক দুর্ঘটনার মুখে পড়েন। ঘুম ভাঙার পর চারপাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন দেখতে পেয়ে এবং নিচে নামার পথ বন্ধ থাকায় তারা এই চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হন। অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় একই পরিবারের ছয়জনসহ মোট দশজন নিহত এবং আরও নয়জন আহত হয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে শায়ানের বাবা আব্দুল মান্নান জানান, সকালে ঘুম থেকে জেগে শায়ান দেখেন পুরো ঘর ধোঁয়ায় ভরে গেছে এবং দরজা খুলতেই আগুন দেখতে পান। ধোঁয়ায় চারপাশ অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় নিচে নামার কোনো সুযোগ না থাকায় তারা দম্পতি দোতলা থেকে নিচে লাফ দেন। নিচে ড্রেন ও পানি থাকায় তারা প্রাণে বেঁচে যান, তবে ফাহমিদার কপালে আঘাত লাগে এবং আগুনের ফুলকিতে শায়ানের পিঠ ঝলসে যায়। ঘটনার সময় তাদের ব্যবহৃত ফোনসহ সব জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায় এবং পরে এক ট্যাক্সিচালকের সহযোগিতায় তারা যোগাযোগের মাধ্যম পান।

শারীরিক জখম ও পোড়ার ক্ষত নিয়ে বর্তমানে তারা ঢাকার বাসায় ফিরেছেন, তবে তাদের মন থেকে এখনো আতঙ্ক কাটেনি। শায়ান ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না এবং ফাহমিদাও বাড়ি ফেরার পর থেকে অত্যন্ত চুপচাপ রয়েছেন। রিসোর্টের ওই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার স্মৃতি এখনো তাদের তাড়া করে ফিরছে এবং এই মানসিক ধাক্কা সামলাতে তাদের বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ছেলের এমন বিপদের খবর পেয়ে প্রথমে দারুণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন আব্দুল মান্নান, কারণ কেরানীগঞ্জ যাওয়ার পথে অপরিচিত নম্বর থেকে বারবার মিসড কল আসতে থাকে। তবে শেষ পর্যন্ত সন্তান ও পুত্রবধূ নিরাপদে ফিরে আসায় তিনি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছেন। ভিকারুননিসা নূন স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক ফাহমিদার দীর্ঘ ছুটির সুযোগে এই ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া নিয়ে কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করলেও তাদের সুস্থভাবে ফিরে আসাকেই বড় প্রাপ্তি বলে মনে করছেন তিনি।

জনপ্রিয়

ঢাকেশ্বরী পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: প্রাণ বাঁচাতে দোতলা থেকে লাফ দেন শায়ান দম্পতি

প্রকাশিত ০৪:৫২:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

সারাদেশ ডেস্ক: কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের ইনানী এলাকায় অবস্থিত টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সময় জীবন বাঁচাতে দোতলা থেকে লাফ দিয়ে প্রাণে বেঁচেছেন শায়ান উল মান্নান ও তার স্ত্রী ফাহমিদা আক্তার। সম্প্রতি ছুটির আনন্দ উপভোগ করতে ওই রিসোর্টে বেড়াতে গিয়ে তারা এই মারাত্মক দুর্ঘটনার মুখে পড়েন। ঘুম ভাঙার পর চারপাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন দেখতে পেয়ে এবং নিচে নামার পথ বন্ধ থাকায় তারা এই চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হন। অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় একই পরিবারের ছয়জনসহ মোট দশজন নিহত এবং আরও নয়জন আহত হয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে শায়ানের বাবা আব্দুল মান্নান জানান, সকালে ঘুম থেকে জেগে শায়ান দেখেন পুরো ঘর ধোঁয়ায় ভরে গেছে এবং দরজা খুলতেই আগুন দেখতে পান। ধোঁয়ায় চারপাশ অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় নিচে নামার কোনো সুযোগ না থাকায় তারা দম্পতি দোতলা থেকে নিচে লাফ দেন। নিচে ড্রেন ও পানি থাকায় তারা প্রাণে বেঁচে যান, তবে ফাহমিদার কপালে আঘাত লাগে এবং আগুনের ফুলকিতে শায়ানের পিঠ ঝলসে যায়। ঘটনার সময় তাদের ব্যবহৃত ফোনসহ সব জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায় এবং পরে এক ট্যাক্সিচালকের সহযোগিতায় তারা যোগাযোগের মাধ্যম পান।

শারীরিক জখম ও পোড়ার ক্ষত নিয়ে বর্তমানে তারা ঢাকার বাসায় ফিরেছেন, তবে তাদের মন থেকে এখনো আতঙ্ক কাটেনি। শায়ান ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না এবং ফাহমিদাও বাড়ি ফেরার পর থেকে অত্যন্ত চুপচাপ রয়েছেন। রিসোর্টের ওই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার স্মৃতি এখনো তাদের তাড়া করে ফিরছে এবং এই মানসিক ধাক্কা সামলাতে তাদের বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ছেলের এমন বিপদের খবর পেয়ে প্রথমে দারুণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন আব্দুল মান্নান, কারণ কেরানীগঞ্জ যাওয়ার পথে অপরিচিত নম্বর থেকে বারবার মিসড কল আসতে থাকে। তবে শেষ পর্যন্ত সন্তান ও পুত্রবধূ নিরাপদে ফিরে আসায় তিনি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছেন। ভিকারুননিসা নূন স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক ফাহমিদার দীর্ঘ ছুটির সুযোগে এই ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া নিয়ে কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করলেও তাদের সুস্থভাবে ফিরে আসাকেই বড় প্রাপ্তি বলে মনে করছেন তিনি।