ঢাকা ০৬:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সাজেকে গোলাগুলির জন্য ইউপিডিএফকে দায়ী করল পুলিশ

অপরাধ ডেস্ক: রাঙামাটির সাজেক পর্যটন এলাকায় আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধার করে ফিরিয়ে আনার সময় সেনাবাহিনীর সঙ্গে একটি সশস্ত্র দলের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়ি সংগঠন ইউপিডিএফ সমর্থিত দুটি সংগঠনের চলমান সড়ক অবরোধের মধ্যে উজো বাজার এলাকায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর জেলা পুলিশ সুপার সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত ঘটনা তুলে ধরেন। গোলাগুলির এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সেনাসদস্যদের ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠী হামলা চালালে বাধ্য হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও পাল্টা গুলি চালায়।

পুলিশের পক্ষ থেকে এই সশস্ত্র হামলার জন্য সরাসরি ইউপিডিএফকে দায়ী করা হয়েছে। রাঙামাটির পুলিশ সুপার জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ইউপিডিএফের সশস্ত্র ক্যাডাররাই মূলত পর্যটকদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিল। পর্যটকদের জীবন রক্ষার্থে এবং নিরাপত্তার স্বার্থেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পাল্টা গুলি চালাতে হয়েছে। এই ঘটনার পর ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে, পুলিশের এই দাবি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে ইউপিডিএফ একটি পাল্টা বিবৃতি দিয়েছে। সংগঠনটির মুখপাত্র অংগ্য মারমা দাবি করেছেন যে সাজেকে কোনো ধরনের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি এবং নিরাপত্তা বাহিনী বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছে। তাদের ভাষ্যমতে, সাজেকবাসীর শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধ কর্মসূচি ভণ্ডুল করতেই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা একতরফাভাবে গুলিবর্ষণ করেছে। এছাড়া অবরোধকারীদের ওপর হামলা, লাঠিপেটা এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুরের মতো নানা অভিযোগও তুলেছে পাহাড়ি এই সংগঠনটি।

উল্লেখ্য, সাজেক থেকে জেএসএসের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিতে স্থানীয় দুটি সংগঠনের ডাকে সেখানে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। দুর্গাপূজার ছুটির সুযোগে বেড়াতে যাওয়া প্রায় দুই হাজার পর্যটক এই অবরোধের মুখে পড়ে আটকে গিয়েছিলেন। পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার এই প্রচেষ্টার সময়ই মূলত পাহাড়ি অঞ্চলের বিবদমান দলগুলোর সংঘাতের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পাহাড়ের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে পর্যটন শিল্পের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয়

অভিষেকেই প্রশ্নবিদ্ধ বোলিং অ্যাকশনে ধরা আলিস

সাজেকে গোলাগুলির জন্য ইউপিডিএফকে দায়ী করল পুলিশ

প্রকাশিত ০৫:০৭:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

অপরাধ ডেস্ক: রাঙামাটির সাজেক পর্যটন এলাকায় আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধার করে ফিরিয়ে আনার সময় সেনাবাহিনীর সঙ্গে একটি সশস্ত্র দলের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়ি সংগঠন ইউপিডিএফ সমর্থিত দুটি সংগঠনের চলমান সড়ক অবরোধের মধ্যে উজো বাজার এলাকায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর জেলা পুলিশ সুপার সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত ঘটনা তুলে ধরেন। গোলাগুলির এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সেনাসদস্যদের ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠী হামলা চালালে বাধ্য হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও পাল্টা গুলি চালায়।

পুলিশের পক্ষ থেকে এই সশস্ত্র হামলার জন্য সরাসরি ইউপিডিএফকে দায়ী করা হয়েছে। রাঙামাটির পুলিশ সুপার জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ইউপিডিএফের সশস্ত্র ক্যাডাররাই মূলত পর্যটকদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিল। পর্যটকদের জীবন রক্ষার্থে এবং নিরাপত্তার স্বার্থেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পাল্টা গুলি চালাতে হয়েছে। এই ঘটনার পর ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে, পুলিশের এই দাবি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে ইউপিডিএফ একটি পাল্টা বিবৃতি দিয়েছে। সংগঠনটির মুখপাত্র অংগ্য মারমা দাবি করেছেন যে সাজেকে কোনো ধরনের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি এবং নিরাপত্তা বাহিনী বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছে। তাদের ভাষ্যমতে, সাজেকবাসীর শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধ কর্মসূচি ভণ্ডুল করতেই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা একতরফাভাবে গুলিবর্ষণ করেছে। এছাড়া অবরোধকারীদের ওপর হামলা, লাঠিপেটা এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুরের মতো নানা অভিযোগও তুলেছে পাহাড়ি এই সংগঠনটি।

উল্লেখ্য, সাজেক থেকে জেএসএসের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিতে স্থানীয় দুটি সংগঠনের ডাকে সেখানে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। দুর্গাপূজার ছুটির সুযোগে বেড়াতে যাওয়া প্রায় দুই হাজার পর্যটক এই অবরোধের মুখে পড়ে আটকে গিয়েছিলেন। পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার এই প্রচেষ্টার সময়ই মূলত পাহাড়ি অঞ্চলের বিবদমান দলগুলোর সংঘাতের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পাহাড়ের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে পর্যটন শিল্পের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।