ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ডেমোক্র্যাটরা কারচুপি করেছিল, তাই আমার তৃতীয়বার নির্বাচনের অধিকার আছে: ট্রাম্প Logo তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পদ্ধতি নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo ‘শিক্ষক ও রাজনৈতিক নেতার কাজ চুমু দেওয়া নয়’ Logo রূপপুরে প্রথম ইউনিটে ‘ফিজিক্স টেস্ট’ সম্পন্ন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের অপেক্ষা Logo ক্লাসিকোর রেফারি মার্তিনেস মুনুয়েরা Logo হাজতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের ভিডিও ভাইরাল, এসআই প্রত্যাহার Logo বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার নির্দেশ কিমের Logo রুশ বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ সহজ করতে চান মিয়া সাত্তার Logo ‘এমন বডিবিল্ডার বাবা ঘরে ঘরে হোক’ Logo প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের আগে রাষ্ট্রদূতকে ফেরানো ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’: শামা ওবায়েদ

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার নির্দেশ কিমের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনীকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনীতে রূপান্তর করতে প্রশিক্ষণ আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত সেনাবাহিনীর কোম্পানি কমান্ডারদের দুই দিনব্যাপী এক সম্মেলনে তিনি এই কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। সম্মেলনে তিনি কোরীয় ধাঁচের সামরিক বিপ্লবের ডাক দিয়ে একটি শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গঠনের রূপরেখা তৈরির আহ্বান জানান। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর প্রতিটি কোম্পানিকে প্রযুক্তিগত ও সামরিক দিক থেকে দক্ষ করে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিট হিসেবে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন কিম।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতাসীন দলের কংগ্রেসের পর পুরো সেনাবাহিনীকে নিয়ে এটিই প্রথম বড় ধরনের সমাবেশ বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএ। এর আগে ওই কংগ্রেসে দেশের প্রচলিত সামরিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছিলেন উত্তর কোরিয়ার নেতা। এরই মধ্যে দেশটি বেশ কিছু আধুনিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে যার মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পিয়ংইয়ং নিজেদের আইনে পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রের মর্যাদা যুক্ত করেছে এবং তাদের এই অবস্থান থেকে কখনো সরে না আসার ঘোষণা দিয়েছে।

এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার গণমাধ্যম এবং সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে কিম জং উন সম্প্রতি চীনের সীমান্তবর্তী শহর দানদংয়ে পৌঁছেছেন। নতুন নির্মিত নিউ ইয়ালু নদী সেতু ব্যবহার করে তিনি চীনে প্রবেশ করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই সীমান্ত অতিক্রমের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি এবং বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও অতিরিক্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার পক্ষ থেকে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়ার একের পর এক অস্ত্র পরীক্ষা এবং সামরিক শক্তি বাড়ানোর এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ মনোযোগ কেড়েছে। দেশটির শীর্ষ নেতার সরাসরি তত্ত্বাবধানে সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির এসব পদক্ষেপ আঞ্চলিক রাজনীতি ও নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলের নিষেধাজ্ঞা ও বাধা উপেক্ষা করে পিয়ংইয়ং তাদের সামরিক নীতিতে অনড় থাকার সুনির্দিষ্ট বার্তা দিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির সামরিক বাহিনীকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার এই নতুন ঘোষণা বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

জনপ্রিয়

ডেমোক্র্যাটরা কারচুপি করেছিল, তাই আমার তৃতীয়বার নির্বাচনের অধিকার আছে: ট্রাম্প

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার নির্দেশ কিমের

প্রকাশিত ০৭:০৭:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনীকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনীতে রূপান্তর করতে প্রশিক্ষণ আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত সেনাবাহিনীর কোম্পানি কমান্ডারদের দুই দিনব্যাপী এক সম্মেলনে তিনি এই কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। সম্মেলনে তিনি কোরীয় ধাঁচের সামরিক বিপ্লবের ডাক দিয়ে একটি শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গঠনের রূপরেখা তৈরির আহ্বান জানান। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর প্রতিটি কোম্পানিকে প্রযুক্তিগত ও সামরিক দিক থেকে দক্ষ করে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিট হিসেবে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন কিম।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতাসীন দলের কংগ্রেসের পর পুরো সেনাবাহিনীকে নিয়ে এটিই প্রথম বড় ধরনের সমাবেশ বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএ। এর আগে ওই কংগ্রেসে দেশের প্রচলিত সামরিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছিলেন উত্তর কোরিয়ার নেতা। এরই মধ্যে দেশটি বেশ কিছু আধুনিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে যার মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পিয়ংইয়ং নিজেদের আইনে পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রের মর্যাদা যুক্ত করেছে এবং তাদের এই অবস্থান থেকে কখনো সরে না আসার ঘোষণা দিয়েছে।

এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার গণমাধ্যম এবং সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে কিম জং উন সম্প্রতি চীনের সীমান্তবর্তী শহর দানদংয়ে পৌঁছেছেন। নতুন নির্মিত নিউ ইয়ালু নদী সেতু ব্যবহার করে তিনি চীনে প্রবেশ করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই সীমান্ত অতিক্রমের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি এবং বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও অতিরিক্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার পক্ষ থেকে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়ার একের পর এক অস্ত্র পরীক্ষা এবং সামরিক শক্তি বাড়ানোর এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ মনোযোগ কেড়েছে। দেশটির শীর্ষ নেতার সরাসরি তত্ত্বাবধানে সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির এসব পদক্ষেপ আঞ্চলিক রাজনীতি ও নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলের নিষেধাজ্ঞা ও বাধা উপেক্ষা করে পিয়ংইয়ং তাদের সামরিক নীতিতে অনড় থাকার সুনির্দিষ্ট বার্তা দিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির সামরিক বাহিনীকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার এই নতুন ঘোষণা বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।