ঢাকা ০৯:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo পুকুরে মাছ, পাড়ে পেঁপেসহ সমন্বিত সবজি চাষে সাফল্য Logo বিনিয়োগ-অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা টোকিওর Logo ডেমোক্র্যাটরা কারচুপি করেছিল, তাই আমার তৃতীয়বার নির্বাচনের অধিকার আছে: ট্রাম্প Logo তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পদ্ধতি নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo ‘শিক্ষক ও রাজনৈতিক নেতার কাজ চুমু দেওয়া নয়’ Logo রূপপুরে প্রথম ইউনিটে ‘ফিজিক্স টেস্ট’ সম্পন্ন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের অপেক্ষা Logo ক্লাসিকোর রেফারি মার্তিনেস মুনুয়েরা Logo হাজতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের ভিডিও ভাইরাল, এসআই প্রত্যাহার Logo বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার নির্দেশ কিমের Logo রুশ বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ সহজ করতে চান মিয়া সাত্তার

হাজতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের ভিডিও ভাইরাল, এসআই প্রত্যাহার

অপরাধ ডেস্ক: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থানা হাজতে আটক থাকা নিষিদ্ধঘোষিত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতার স্লোগান দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে আটক শাহ তপু হাজতখানার ভেতর থেকে ‘জয় বাংলা’ ও ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। নিয়ন্ত্রিত একটি এলাকায় কীভাবে মোবাইল ফোন প্রবেশ করল এবং ভিডিও ধারণ করা হলো, তা নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়।

ঘটনার বিস্তারিত তথ্যে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর দুপুরে নবীগঞ্জ উপজেলার উমরপুর গ্রাম থেকে শাহ তপু নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাকে আটক করে থানার হাজতখানায় আটকে রাখা হয়েছিল। এর কিছুদিন পর একই এলাকার শাহ জুয়েল নামের এক ব্যক্তি হাজতে বন্দি তপুকে পানি দিতে সেখানে যান। সেই সুযোগে জুয়েল নিজের মুঠোফোন ব্যবহার করে তপুর স্লোগান দেওয়ার দৃশ্য কৌশলে ধারণ করেন।

পরবর্তীতে ধারণকৃত ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ প্রশাসনের টনক নড়ে। এই ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ভিডিও ধারণকারী শাহ জুয়েলকেও একই মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে। হাজতের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশের এই ঘটনা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের গাফিলতির স্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে দেখা হয়।

দায়িত্বে অবহেলার সুস্পষ্ট অভিযোগে নবীগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক মেহেদী এবং নারী কনস্টেবল আফসানা মিমিকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের দুজনকে নবীগঞ্জ থানা থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হোসেন। এছাড়া এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা সহযোগীদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঘেরা থানা হাজতের মতো স্পর্শকাতর স্থানে এমন ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার বিষয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের আরও সতর্ক ও পেশাদার হওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখছে এবং যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রেখেছে।

জনপ্রিয়

পুকুরে মাছ, পাড়ে পেঁপেসহ সমন্বিত সবজি চাষে সাফল্য

হাজতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের ভিডিও ভাইরাল, এসআই প্রত্যাহার

প্রকাশিত ০৭:২২:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

অপরাধ ডেস্ক: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থানা হাজতে আটক থাকা নিষিদ্ধঘোষিত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতার স্লোগান দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে আটক শাহ তপু হাজতখানার ভেতর থেকে ‘জয় বাংলা’ ও ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। নিয়ন্ত্রিত একটি এলাকায় কীভাবে মোবাইল ফোন প্রবেশ করল এবং ভিডিও ধারণ করা হলো, তা নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়।

ঘটনার বিস্তারিত তথ্যে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর দুপুরে নবীগঞ্জ উপজেলার উমরপুর গ্রাম থেকে শাহ তপু নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাকে আটক করে থানার হাজতখানায় আটকে রাখা হয়েছিল। এর কিছুদিন পর একই এলাকার শাহ জুয়েল নামের এক ব্যক্তি হাজতে বন্দি তপুকে পানি দিতে সেখানে যান। সেই সুযোগে জুয়েল নিজের মুঠোফোন ব্যবহার করে তপুর স্লোগান দেওয়ার দৃশ্য কৌশলে ধারণ করেন।

পরবর্তীতে ধারণকৃত ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ প্রশাসনের টনক নড়ে। এই ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ভিডিও ধারণকারী শাহ জুয়েলকেও একই মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে। হাজতের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশের এই ঘটনা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের গাফিলতির স্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে দেখা হয়।

দায়িত্বে অবহেলার সুস্পষ্ট অভিযোগে নবীগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক মেহেদী এবং নারী কনস্টেবল আফসানা মিমিকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের দুজনকে নবীগঞ্জ থানা থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হোসেন। এছাড়া এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা সহযোগীদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঘেরা থানা হাজতের মতো স্পর্শকাতর স্থানে এমন ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার বিষয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের আরও সতর্ক ও পেশাদার হওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখছে এবং যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রেখেছে।