উজানে ভারী বর্ষণের ফলে দেশের উত্তরাঞ্চলে আবারও বন্যার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর জনপদের ৫টি জেলার নদ-নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
শনিবার কেন্দ্রের এক বিশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়, ভারতের আসাম ও সংলগ্ন উজানে ভারী বৃষ্টির কারণে উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন টানা বাড়তে পারে। আগামী ১ থেকে ২ দিনের মধ্যে এসব নদীর পানি কোনো কোনো পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
চলতি মাসের শুরুতে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গিয়েছিল। পানির তোড়ে ভেসে গিয়েছিল বহু ঘরবাড়ি। সেই ধকল কাটতে না কাটতেই নতুন করে পানি বাড়ার খবরে নদীপাড়ের মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারের বন্যার মূল উৎস ব্রহ্মপুত্র নয়, বরং তিস্তা ও ধরলা।
কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, বর্তমানে নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নিচে থাকলেও উজানের বৃষ্টির কারণে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারের পানি দ্রুত বাড়ছে। তবে আশার কথা হলো, এবার ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করবে না। নদীসংলগ্ন কিছু নিচু এলাকায় পানি উঠলেও বড় ধরনের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।
একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন রংপুর ও গাইবান্ধা পাউবোর প্রকৌশলীরাও। তারা জানিয়েছেন, তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। গাইবান্ধার হরিপুর ও তারাপুর এবং নীলফামারীর ডালিয়া ও কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা ইতিমধ্যেই সতর্কসীমা স্পর্শ করেছে। তবে যমুনার পানি বাড়লেও তা বিপদসীমা অতিক্রম করবে না। ফুলছড়ি উপজেলার মানিককর চরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ ও শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, চলতি মাসের বন্যার ধকল কাটতে না কাটতেই আবারও পানি বাড়ার খবরে তারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, শুধু উত্তরাঞ্চলই নয়, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় আগামী পাঁচ দিন পানি বাড়তে পারে, তবে তা বিপদসীমা পার হওয়ার আশঙ্কা নেই। অপরদিকে সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ইতিমধ্যেই বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ছাতক ও শেরপুর পয়েন্টেও পানি সতর্কসীমার ওপর রয়েছে, যা আগামী তিন দিনে আরও বাড়তে পারে। এছাড়া নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানি এখনো বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আত্রাই, করতোয়া ও ছোট যমুনার পানি কিছুটা কমেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা ধারণা করছেন, আগামী ২ থেকে ৩ দিন পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলেও, কয়েক দিন পর তা আবার দ্রুত কমে যাবে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় নদীপাড়ের প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।







































