ঢাকা ০৭:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বাজারের হিসাব একটু সহজ করতে স্বপ্নের বিশেষ আয়োজন Logo স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ-এর নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন এনামুল হক Logo ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতির আহবায়ক আতিক হাসান শুভ, সদস্য সচিব স্মৃতি আক্তার Logo ১০,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার পর্যন্ত বিশাল ব্যাটারি নিয়ে বাংলাদেশে আসছে রেডমি নোট ১৭ সিরিজ Logo তরুণদের ক্ষমতায়নে ১৫ জন ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর নিয়োগ দিলো অপো Logo দেশে লঞ্চ হলো ভিভো ভি৮০ লাইট ফাইভজি Logo কর্মীদের জন্য টানা তৃতীয়বারের মত মেটলাইফের বীমা নিচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক Logo ডেটা সুরক্ষায় ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়তে রবি’র ‘প্রাইভেসি অ্যাভেঞ্জার্স’ প্রতিযোগিতার নিবন্ধন শুরু Logo ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি স্নাতক ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জরুরি বিজ্ঞপ্তি Logo ডিজিটাল যুগেও কুবির গবেষণা সীমাবদ্ধ প্রিন্টেড জার্নালে

দ্রুততম সময়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপের দাবিতে উত্তাল ইবি

  • সাকীফ বিন আলম
  • প্রকাশিত ০৭:৪২:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৬৯ বার পঠিত

ছাত্রসংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপসহ পাঁচ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও ছাত্রসমাবেশ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশিবির। এসময় শত শত নেতাকর্মীর স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে ইবি ক্যাম্পাস।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) বটতলা থেকে মিছিল শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে অনতিবিলম্বে ইকসুর নীতিমালা ও রোডম্যাপ প্রদান, সাজিদ হত্যার বিচার, ডিজিটাল পেমেন্ট নিশ্চিতকরণ, এ বছরেই নির্মাণাধীন হলসমূহ চালু এবং মেধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান সংগঠনটি। এতে সাত দিনের মধ্যে পেমেন্ট সিস্টেম ডিজিটালাইজেশনে পদক্ষেপে না নিলে প্রশাসন অচল করে দেওয়া হুঁশিয়ারি দেন সংগঠনটি।

এসময় সংগঠনের শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান, সেক্রেটারি ইউসুব আলী, অফিস সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাফি, অর্থ সম্পাদক শেখ আল আমিন, প্রচার সম্পাদক আবসার নবী হামজা, দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক হাসানুল বান্না অলিসহ পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

মিছিলে তারা, ’ ‘ইকসুর তারিখ ঘোষণা করো,’ ছাত্রসংসদ নিশ্চিত করো,‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘সাজিদ মৃত্যুর তদন্ত, দ্রুত করো, করতে হবে’, ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত করো, শিক্ষার্থীদের রক্ষা করো,’ ‘হলগুলো চালু করো, ভোগান্তি দূর করো, ‘বিশ্ব যখন আধুনিক, ইবি কেন যান্ত্রিক,’ ‘ডিজিটাল পেমেন্ট চালু হোক, ভোগান্তি দূর হোক,’ ‘নিয়োগ হবে স্বচ্ছ, শিক্ষক হবে দক্ষ,’ ‘মেধা আর স্বচ্ছতা, নিয়োগে চাই ন্যায্যতা,’ ‘আবু সাইদের বাংলায়, নিয়োগ বাণিজ্যের ঠাই নাই’সহ নানা স্লোগান দেয়।

সমাবেশে শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রশাসন আইনের অজুহাত দেখিয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন করছে না। অথচ বেরোবি ও জবির মতো নবীন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের আইন পাস করে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন ১৫ তারিখের মধ্যে নীতিমালা চূড়ান্ত করার আশ্বাস দিলেও ১৮ তারিখ পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ নিয়ে কোনো রকম টালবাহানা করা হলে শিক্ষার্থীরা তার দাঁতভাঙা জবাব দেবে।

তিনি আরো বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাজিদকে হত্যার ৯৩ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত খুনিদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। এই ব্যর্থতা শুধু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরই নয়, ইন্টেরিম সরকারেরও ব্যর্থতা। যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সাজিদের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা না হয়, তাহলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।

সাত দিনের মধ্যে পেমেন্ট সিস্টেম ডিজিটালকরণ বিষয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলে মাত্র ২১ দিনের মধ্যেই পেমেন্ট সিস্টেম ডিজিটাল করা সম্ভব। এ বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের দপ্তর অচল করে দেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন হলগুলোর দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ২০১৮ সালে টেন্ডার হওয়া হলের নির্মাণকাজ ২০২৫ সালেও শেষ হয়নি, যা শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটকে তীব্রতর করছে। চলতি বছরের মধ্যেই সকল হলের নির্মাণকাজ শেষ করে শিক্ষার্থীদের কাছে হস্তান্তর ও মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টন করতে হবে।

মাহমুদুল হাসান বলেন, একটি নির্দিষ্ট মহল আবারও আওয়ামী লীগের শাসনামলের মতো করে বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, যেখানে প্রাধ্যক্ষরাও সহযোগিতা করছেন। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কোনোভাবেই হলগুলোকে সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দিতে দেওয়া হবে না। যদি এমন কোনো চেষ্টা করা হয়, তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবে।

শিক্ষক সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বিভাগে ৫টি বা এমনকি ৭টি ব্যাচ চলমান থাকলেও শিক্ষক রয়েছেন মাত্র দুজন, যা শিক্ষার মানকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। দ্রুত ন্যায্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান তারা।

বাজারের হিসাব একটু সহজ করতে স্বপ্নের বিশেষ আয়োজন

দ্রুততম সময়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপের দাবিতে উত্তাল ইবি

প্রকাশিত ০৭:৪২:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

ছাত্রসংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপসহ পাঁচ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও ছাত্রসমাবেশ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশিবির। এসময় শত শত নেতাকর্মীর স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে ইবি ক্যাম্পাস।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) বটতলা থেকে মিছিল শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে অনতিবিলম্বে ইকসুর নীতিমালা ও রোডম্যাপ প্রদান, সাজিদ হত্যার বিচার, ডিজিটাল পেমেন্ট নিশ্চিতকরণ, এ বছরেই নির্মাণাধীন হলসমূহ চালু এবং মেধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান সংগঠনটি। এতে সাত দিনের মধ্যে পেমেন্ট সিস্টেম ডিজিটালাইজেশনে পদক্ষেপে না নিলে প্রশাসন অচল করে দেওয়া হুঁশিয়ারি দেন সংগঠনটি।

এসময় সংগঠনের শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান, সেক্রেটারি ইউসুব আলী, অফিস সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাফি, অর্থ সম্পাদক শেখ আল আমিন, প্রচার সম্পাদক আবসার নবী হামজা, দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক হাসানুল বান্না অলিসহ পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

মিছিলে তারা, ’ ‘ইকসুর তারিখ ঘোষণা করো,’ ছাত্রসংসদ নিশ্চিত করো,‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘সাজিদ মৃত্যুর তদন্ত, দ্রুত করো, করতে হবে’, ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত করো, শিক্ষার্থীদের রক্ষা করো,’ ‘হলগুলো চালু করো, ভোগান্তি দূর করো, ‘বিশ্ব যখন আধুনিক, ইবি কেন যান্ত্রিক,’ ‘ডিজিটাল পেমেন্ট চালু হোক, ভোগান্তি দূর হোক,’ ‘নিয়োগ হবে স্বচ্ছ, শিক্ষক হবে দক্ষ,’ ‘মেধা আর স্বচ্ছতা, নিয়োগে চাই ন্যায্যতা,’ ‘আবু সাইদের বাংলায়, নিয়োগ বাণিজ্যের ঠাই নাই’সহ নানা স্লোগান দেয়।

সমাবেশে শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রশাসন আইনের অজুহাত দেখিয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন করছে না। অথচ বেরোবি ও জবির মতো নবীন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের আইন পাস করে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন ১৫ তারিখের মধ্যে নীতিমালা চূড়ান্ত করার আশ্বাস দিলেও ১৮ তারিখ পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ নিয়ে কোনো রকম টালবাহানা করা হলে শিক্ষার্থীরা তার দাঁতভাঙা জবাব দেবে।

তিনি আরো বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাজিদকে হত্যার ৯৩ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত খুনিদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। এই ব্যর্থতা শুধু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরই নয়, ইন্টেরিম সরকারেরও ব্যর্থতা। যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সাজিদের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা না হয়, তাহলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।

সাত দিনের মধ্যে পেমেন্ট সিস্টেম ডিজিটালকরণ বিষয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলে মাত্র ২১ দিনের মধ্যেই পেমেন্ট সিস্টেম ডিজিটাল করা সম্ভব। এ বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের দপ্তর অচল করে দেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন হলগুলোর দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ২০১৮ সালে টেন্ডার হওয়া হলের নির্মাণকাজ ২০২৫ সালেও শেষ হয়নি, যা শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটকে তীব্রতর করছে। চলতি বছরের মধ্যেই সকল হলের নির্মাণকাজ শেষ করে শিক্ষার্থীদের কাছে হস্তান্তর ও মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টন করতে হবে।

মাহমুদুল হাসান বলেন, একটি নির্দিষ্ট মহল আবারও আওয়ামী লীগের শাসনামলের মতো করে বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, যেখানে প্রাধ্যক্ষরাও সহযোগিতা করছেন। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কোনোভাবেই হলগুলোকে সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দিতে দেওয়া হবে না। যদি এমন কোনো চেষ্টা করা হয়, তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবে।

শিক্ষক সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বিভাগে ৫টি বা এমনকি ৭টি ব্যাচ চলমান থাকলেও শিক্ষক রয়েছেন মাত্র দুজন, যা শিক্ষার মানকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। দ্রুত ন্যায্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান তারা।