চীন-নেপাল সীমান্তঘেঁষা তিব্বতে ভয়াবহ ভূমিধসের দুই দিন পর নতুন করে আবার বন্যার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। চরম বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে চলমান উদ্ধার অভিযান আপাতত স্থগিত ঘোষণা করেছে চীন। প্রাণঘাতী এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখনও শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পাহাড়ি ধসের কারণে ধ্বংসস্তূপ জমে নদী আটকে একটি কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি হয়েছিল। টানা বৃষ্টির কারণে এখন সেই হ্রদের পানি উপচে উদ্ধারকারীদের অবস্থানের দিকেই ধেয়ে আসছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চরম ঝুঁকিতে থাকা জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলোকে অন্তত এক কিলোমিটার নিরাপদ দূরত্বে পিছিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সকলকে নিজ নিজ স্থানে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
গত বুধবার (২৬ আগস্ট) তিব্বতের সীমান্ত শহর জিরং-এ বন্যা ও পাহাড়ি ধসের পর থেকেই এই মানবিক সংকট শুরু হয়। ওই অঞ্চলে বিরতিহীন বৃষ্টির কারণে আগামী তিন দিন হ্রদের পানির স্তর ক্রমেই বাড়তে পারে, যা আগামী ১ সেপ্টেম্বরের দিকে সবচেয়ে বিপজ্জনক রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে সিসিটিভি।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, অনবরত পানি বাড়তে থাকলে এই অস্থায়ী বাঁধ ভেঙে গিয়ে প্রলয়ংকরী ঢল নামতে পারে। এতে জিরং বন্দরসহ নিম্নাঞ্চল মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ার তীব্র আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে চীনা বিশেষ প্রকৌশলী দল সেখানে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে।
এদিকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও সীমিত পরিসরে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) পর্যন্ত দুর্গম দুর্যোগ এলাকা থেকে ৪৯৯ জন চীনা নাগরিক এবং ৫৫৫ জন বিদেশি পর্যটকসহ সহস্রাধিক মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে।
এখনও যারা নিখোঁজ রয়েছেন, তাঁদের অবস্থান দ্রুত শনাক্ত করতে ম্যানুয়াল তল্লাশির পাশাপাশি ড্রোনের সাহায্যে থ্রিডি মডেলিং ও থার্মাল ইমেজিং প্রযুক্তির মতো আধুনিক ব্যবস্থা ব্যবহার করছেন উদ্ধারকারীরা।





























