জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ির পোগলদিঘা ইউনিয়নে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাদক বিস্তার ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা আগের তুলনায় বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে এলাকায় উদ্বেগ, আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গির আলমের ছেলে মেহেদী হাসান মিশুক এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তুলেছেন এবং মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। স্থানীয়দের দাবি, নির্বাচন সামনে আসার পর থেকেই এসব কর্মকাণ্ড আরও দৃশ্যমান ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিশুকের নেতৃত্বে চেচিয়াবাধা ও কান্দাপাড়া এলাকার কয়েকজন যুবক-সাইদ, রহমতুল্লাহ, ফিরোজ, নাইম, সোহাগ, সেজান, মুন্না, আশিক ও রাজিব একত্র হয়ে বিভিন্ন অনৈতিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, এসব যুবকের মধ্যে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের ব্যবহার বেড়েছে এবং মাদকের অর্থ জোগাড় করতে নানা অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, নির্বাচনকে ঘিরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এবং রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ার কারণে সাধারণ মানুষ ভীত অবস্থায় রয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, প্রকাশ্যে মুখ খুললে হয়রানির শিকার হতে পারেন।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, জাহাঙ্গির আলম আসন্ন সংশোধনী নির্বাচনে ৯ নম্বর চেচিয়াবাধা গ্রামের কেন্দ্রের দায়িত্বে রয়েছেন। তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, ভোট চাইতে গিয়ে মাদক সেবনের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোট আদায়ের চেষ্টা করার। এসব অভিযোগ এলাকায় নতুন করে বিতর্ক ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
জনমনে প্রশ্ন জেগেছে, যাঁর বিরুদ্ধে মাদক মামলায় কারাভোগের অভিযোগ রয়েছে, তাঁকে কীভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া হলো? স্থানীয়দের মতে, এমন একজন ব্যক্তিকে নেতৃত্বের সামনের কাতারে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক দলটির এখনই আত্মসমালোচনা ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মিশুকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সরিষাবাড়ি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ বাচ্চু মিয়া বলেন এবিষয়ে এখনো কোনো লেখিত অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো।
সচেতন মহলের দাবি, সুষ্ঠু নির্বাচন, এলাকার শান্তি ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। স্থানীয়দের আশঙ্কা, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে প্রভাব বিস্তার ও হয়রানির মাত্রা আরও বাড়তে পারে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে।




















