আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোট দিতে পেরে অনেক ভোটারই আনন্দ ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ এবারের নির্বাচনকে “ঈদ উৎসবের” সঙ্গে তুলনা করেছেন।
সরেজমিনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে ঢাকা-৬ আসনের সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া ও ওয়ারী এলাকার কয়েকটি কেন্দ্রে সকাল ৭টা থেকেই ভোটাররা লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেন। সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই অনেকেই সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করছিলেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের পুরুষ ভোটকেন্দ্র কোব্বাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও ইস্ট এ্যান্ট ক্লাব ভোট কেন্দ্রে গিয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের সরব উপস্থিতি ছিল। তবে দুপুর পেরুলে কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কমে আসে।
আউয়াল নামের এক ভোটার বলেন, “দীর্ঘ সতেরো বছর ধরে ভোট দিতে পারিনি। আজ ভোট দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। নতুন পোশাক পরে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এসেছি। ওর মধ্যেও আলাদা এক আগ্রহ দেখেছি।”
ভোটকেন্দ্রের ভেতরের পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এবারের পরিবেশ খুব ভালো। গেটে ভোটার তালিকা নম্বর যাচাই করে ভেতরে পাঠানো হয়েছে। সুশৃঙ্খলভাবে সবাই সহযোগিতা করেছে। আগে অনেক সময় শুনতে হতো—আপনার ভোট হয়ে গেছে। কিন্তু এবার সত্যিই ভোটটা ঈদের উৎসবে পরিণত হয়েছে।”
আরেকজন ভোটার তার ১২ বছর বয়সী ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রে আসেন। তিনি জানান, “গতকাল রাত থেকেই ছেলে বলছে, বাবা আমি তোমার সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে যাবো, ভোট দেওয়া দেখবো।” কেন্দ্রে প্রবেশের সময় শিশুটি বাবাকে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ার কথাও বলে—যা নির্বাচনী উৎসবের পারিবারিক আবহকেই তুলে ধরে।
কেন্দ্রে দায়িত্বরত এক পোলিং এজেন্ট বলেন, “আমরা যে দলের এজেন্টই হই না কেন, সবাই একই মহল্লার মানুষ। নির্বাচন একদিনের জন্য। আমরা সারাবছর একসঙ্গে থাকি। তাই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ঝামেলায় জড়াতে চাই না।”
কয়েকটি কেন্দ্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখন পর্যন্ত তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে।
দীর্ঘ সময় পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে রাজধানীর অনেক ভোটারই এবারের নির্বাচনকে উৎসবমুখর ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের একটি দিন হিসেবে।




















