ঢাকা ১০:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষায় কাজ করছে ‘হাবিপ্রবি মজার ইস্কুল Logo বাকৃবি কৃষিকন্যা হলে প্রশাসনের অভিযানে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম জব্দ ও হিটার ভাঙচুর, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ  Logo রপ্তানিযোগ্য আলু বাছাইয়ে স্মার্ট প্রযুক্তি: বাকৃবিতে অটোমেটেড পটেটো গ্রেডার নিয়ে কর্মশালা Logo জাবিতে মিডিয়া ও ইনফরমেশন লিটারেসি বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত Logo জুলাইকে বিএনপি গুরুত্ব দিতে চায় না : শিশির মনির   Logo সবুজ ক্যাম্পাস গড়তে কুবির বিজয়-২৪ হলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি Logo ইডেন কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি রিভার জামিন Logo ফটোকপির দাম চাওয়াকে কেন্দ্র করে রাবিতে দোকানির ওপর ছাত্রদল নেতার হামলা Logo কুবিতে ছাত্রদল নেতা ও কর্মীর একে অপরের বিরুদ্ধে থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ Logo কুবি সাইক্লিস্টের নেতৃত্বে ওমর – সুপ্রতীক

দুই নারীসহ হানিট্র্যাপ চক্রের ১২ সদস্য গ্রেফতার

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে দুই নারীসহ হানিট্র্যাপ চক্রের ১২ সদস্য গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলো-১। তুলিয়া আক্তার ওরফে সুমি ২। দুলালী ওরফে মীম ৩। মোঃ ওমর ফারুক ৪। মোঃ শফিকুল ইসলাম শান্ত ৫। মোঃ সজল তালুকদার ৬। ইয়াছিন ৭। মোঃ নাছির খান ৮। সাদ্দাম ৯। মেহেদী হাসান শাহরিয়া ১০। আজিজুল হাকিম টুটুল ১১। মোঃ কামরুল ইসলাম ও ১২। মোঃ রাব্বি ।

যাত্রাবাড়ী থানা সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জানুয়ারি ভোর আনুমানিক ০৫.২০ ঘটিকায় সায়েদাবাদ জনপদ মোড় এলাকা হতে এই চক্রের সদস্যরা দুই ব্যক্তিকে অপহরণ করে যাত্রাবাড়ী থানাধীন মাতুয়াইল কবরস্থান রোড এলাকার একটি বাসায় নিয়ে আটক রাখে এবং মারধর করে। এ সময় অজ্ঞাতনামা দুই মহিলার সাথে আপত্তিকর ছবি তুলে রাখে। গ্রেফতারকৃতরা অপহৃতদের কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং টাকা না দিলে আপত্তিকর ছবি তাদের পরিচিতজনসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করে। এছাড়া তারা অপহৃতদের মানিব্যাগে থাকা নগদ ৪৮ হাজার টাকা, দুই ভরি ওজনের রুপার চেইন, একটি হীরার আংটিসহ বিকাশ, ডেবিট কার্ড ও কার্ডের মাধ্যমে এটিএম বুথ থেকে সর্বমোট ৫ লক্ষ ৩১ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় গত ১৩ জানুয়ারি  যাত্রাবাড়ী থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়।

অপর এক ঘটনায় জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রেফতারকৃত তুলিয়া আক্তার সুমির সাথে জনৈক ব্যক্তির পরিচয় হয় । এর সূত্র ধরে সুমি তার সাথে দেখা করার জন্য অনুরোধ করে। এই অনুরোধের প্রেক্ষিতে ১৫ ডিসেম্বর ডেমরা থানাধীন স্টাফ কোয়ার্টার হোসেন প্লাজার সামনে গিয়ে ঐ ব্যক্তি সুমির সাথে দেখা করেন । দেখা করার পর সুমি ভিকটিমকে তার বাসায় যাওয়ার অনুরোধ করলে তিনি সুমির বাসায় যান। বাসায় প্রবেশ করার ১০ মিনিটের মধ্যে অজ্ঞাত ৬/৭ জনলোক তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে তার  নিকট আট লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। তাদের দাবীকৃত টাকা দিতে অস্বীকার করলে তারা তাকে খুন করবে মর্মে হুমকি প্রদান করে। তখন তিনি নিরুপায় হয়ে তার সাথে থাকা নগদ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা, ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের দুইটি আংটি ও তার পরিবারের কাছ থেকে  বিকাশের মাধ্যমে ৪ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা এনে দেন। পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন প্রকার হুমকি প্রদান করে বাসা থেকে বের করে দেয়। এ ঘটনায় বাদী মোখলেছুরের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৩ জানুয়ারি ডেমরা থানায় একটি মামলা রুজু হয়।

পৃথক দুইটি ঘটনার তদন্তে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা একই চক্রের সদস্য। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা থানার একাধিক টিম ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে এই চক্রের ১২ (বার) সদস্যকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, এই চক্রের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক তৈরি করে এবং ফাঁদে ফেলে টার্গেটকৃত ব্যক্তিদের কাছ থেকে নগদ অর্থসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেয়।

এই চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জনপ্রিয়

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষায় কাজ করছে ‘হাবিপ্রবি মজার ইস্কুল

দুই নারীসহ হানিট্র্যাপ চক্রের ১২ সদস্য গ্রেফতার

প্রকাশিত ০৭:৫৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে দুই নারীসহ হানিট্র্যাপ চক্রের ১২ সদস্য গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলো-১। তুলিয়া আক্তার ওরফে সুমি ২। দুলালী ওরফে মীম ৩। মোঃ ওমর ফারুক ৪। মোঃ শফিকুল ইসলাম শান্ত ৫। মোঃ সজল তালুকদার ৬। ইয়াছিন ৭। মোঃ নাছির খান ৮। সাদ্দাম ৯। মেহেদী হাসান শাহরিয়া ১০। আজিজুল হাকিম টুটুল ১১। মোঃ কামরুল ইসলাম ও ১২। মোঃ রাব্বি ।

যাত্রাবাড়ী থানা সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জানুয়ারি ভোর আনুমানিক ০৫.২০ ঘটিকায় সায়েদাবাদ জনপদ মোড় এলাকা হতে এই চক্রের সদস্যরা দুই ব্যক্তিকে অপহরণ করে যাত্রাবাড়ী থানাধীন মাতুয়াইল কবরস্থান রোড এলাকার একটি বাসায় নিয়ে আটক রাখে এবং মারধর করে। এ সময় অজ্ঞাতনামা দুই মহিলার সাথে আপত্তিকর ছবি তুলে রাখে। গ্রেফতারকৃতরা অপহৃতদের কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং টাকা না দিলে আপত্তিকর ছবি তাদের পরিচিতজনসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করে। এছাড়া তারা অপহৃতদের মানিব্যাগে থাকা নগদ ৪৮ হাজার টাকা, দুই ভরি ওজনের রুপার চেইন, একটি হীরার আংটিসহ বিকাশ, ডেবিট কার্ড ও কার্ডের মাধ্যমে এটিএম বুথ থেকে সর্বমোট ৫ লক্ষ ৩১ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় গত ১৩ জানুয়ারি  যাত্রাবাড়ী থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়।

অপর এক ঘটনায় জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রেফতারকৃত তুলিয়া আক্তার সুমির সাথে জনৈক ব্যক্তির পরিচয় হয় । এর সূত্র ধরে সুমি তার সাথে দেখা করার জন্য অনুরোধ করে। এই অনুরোধের প্রেক্ষিতে ১৫ ডিসেম্বর ডেমরা থানাধীন স্টাফ কোয়ার্টার হোসেন প্লাজার সামনে গিয়ে ঐ ব্যক্তি সুমির সাথে দেখা করেন । দেখা করার পর সুমি ভিকটিমকে তার বাসায় যাওয়ার অনুরোধ করলে তিনি সুমির বাসায় যান। বাসায় প্রবেশ করার ১০ মিনিটের মধ্যে অজ্ঞাত ৬/৭ জনলোক তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে তার  নিকট আট লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। তাদের দাবীকৃত টাকা দিতে অস্বীকার করলে তারা তাকে খুন করবে মর্মে হুমকি প্রদান করে। তখন তিনি নিরুপায় হয়ে তার সাথে থাকা নগদ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা, ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের দুইটি আংটি ও তার পরিবারের কাছ থেকে  বিকাশের মাধ্যমে ৪ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা এনে দেন। পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন প্রকার হুমকি প্রদান করে বাসা থেকে বের করে দেয়। এ ঘটনায় বাদী মোখলেছুরের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৩ জানুয়ারি ডেমরা থানায় একটি মামলা রুজু হয়।

পৃথক দুইটি ঘটনার তদন্তে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা একই চক্রের সদস্য। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা থানার একাধিক টিম ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে এই চক্রের ১২ (বার) সদস্যকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, এই চক্রের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক তৈরি করে এবং ফাঁদে ফেলে টার্গেটকৃত ব্যক্তিদের কাছ থেকে নগদ অর্থসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেয়।

এই চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।