ময়মনসিংহে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় এর সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ফোকলোর বিভাগের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ এনে বিচারের দাবিতে বিভাগের মূল ফটকে তালা দিয়েছেন উক্ত বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এসময় বিভাগের মূল ফটকে “চুরির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে বিভাগ তালাবদ্ধ করা হলো” শিরোনামে একটি পোস্টার ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। এসময় পরিস্থিতি সমাধানে ফোকলোর বিভাগে উপস্থিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডি।
এ ঘটনায় ফোকলোর বিভাগের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে চার দফা দাবিনামা সংযুক্ত একটি লিখিত অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে জমা দিয়েছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি হলোঃ
১. স্বচ্ছ তদন্ত কমিটিঃ উক্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।
২. দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিঃ তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত সংবিধিবদ্ধ ও সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিতের সতর্কতাঃ ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষকের অধীনে কোনো একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ না করার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অনিচ্ছাসত্ত্বেও একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হবেন।
৪. শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণঃ ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থী যেন ব্যক্তিগত আক্রোশ বা হয়রানির শিকার না হন এবং সবার জন্য নিরাপদ একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করা হয় এ বিষয়ে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর ২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান রিমা জানান, “সেমিস্টার পরীক্ষার সময় বিভাগের ব্যাগ সামনে রাখা হয়েছিল সেখান থেকে টাকা হারিয়েছে । পরে বিভাগীয় পিকনিকে গিয়েও অনুরূপভাবে অর্থ চুরি হয়। পরবর্তী তল্লাশিতে প্রদিতি ম্যামের কাছ থেকে অর্থ উদ্ধার করা হয়। এ কারনেই তার বিরুদ্ধে শাস্তি দাবি করছি।”
আন্দোলনকারীদের মধ্যে স্নাতকোত্তর ২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী তকিব হাসান দাবি করেন, “অভিযোগ নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করলে তিনি সেটি প্রক্টরের কাছে পাঠানোর আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে আবার উপাচার্যের কাছে গেলে বিভাগে যোগাযোগ করতে বলা হয়। কিন্তু বিভাগীয় পর্যায়ে গেলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। দীর্ঘসূত্রতা ও তালবাহানার কারণে আমরা বাধ্য হয়ে বিভাগে তালা দিয়েছি। আমরা দ্রুত সমাধান চাই।”
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ফোকলোর বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. আতিজা দিল আফরোজ বলেন, “অভিযোগ এসেছে এটি সত্য। শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কাছেও গিয়েছেন বলে আমি জানি। আমাদের বিভাগে ৮ তারিখে একটি লিখিত আবেদন এসেছে। উপাচার্যের কাছে যাওয়ার সময় সেখানে প্রক্টরসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। সেখান থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি বিভাগ হয়ে প্রথমে ডিনের কাছে এবং পরবর্তীতে নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় এগোবে। বিভাগ কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা জানতে এলে আমি তাদের জানিয়েছি, আমার জানা মতে বিষয়টি বিভাগের এখতিয়ারভুক্ত নয়।”
তিনি আরও বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকার কাছে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেছেন।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত শিক্ষিকা বলেন, “আমি এই বিষয়টি নিয়ে ট্রমাটাইজড। আমার ক্লাস নেওয়ার ছিলো আজকে, নিতে পারছি না। আমি একটু স্টেবল হয়ে নেই, তারপর আমি নিজেই তোমাদের ডেকে এই বিষয় নিয়ে কথা বলবো।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান জনি জানান, “তালাবদ্ধ থাকায় আমরা বিভাগের শিক্ষকদের সাথে কথা বলতে পারিনি, প্রশাসনের সাথে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”




















