পবিত্র রমজানের সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতার বার্তাকে ধারণ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমী ইফতার মাহফিল। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর নেতা মোহাম্মদ রাজন মিয়ার উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন ক্যাম্পাসে কর্মরত রিকশাচালকরা এবং সংগঠনের অন্যান্য সদস্য।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে জাবি ছাত্রদল নেতা রাজনের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।
সারাদিন পরিশ্রম করে শিক্ষার্থীদের সেবা দেওয়া রিকশাচালকদের সম্মান ও কৃতজ্ঞতা জানানোই ছিল আয়োজনের মূল প্রেরণা।
ইফতার শুরুর আগে উপস্থিত সবাই সম্মিলিতভাবে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে মানবিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
এরপর খেজুর, শরবত ও বিভিন্ন খাবারের মাধ্যমে রোজা ভাঙেন সবাই। আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডি পেরিয়ে পুরো আয়োজন জুড়ে ছিল আন্তরিকতা ও হৃদ্যতার ছোঁয়া। রিকশাচালক ও শিক্ষার্থীরা একই সারিতে বসে ইফতার করেন—যা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।
ইফতার শেষে রাজন বলেন, “ক্যাম্পাসে প্রতিদিন যারা নীরবে আমাদের সেবা দিয়ে যান, সেই রিকশাচালক ভাইদের অবদান সত্যিই অনস্বীকার্য। তাদের সঙ্গে এবং আমার প্রিয় জুনিয়র ভাই-বোনদের সঙ্গে এই পবিত্র মুহূর্ত ভাগ করে নিতে পেরে আমি আনন্দিত। আমরা সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “ছাত্রদল কেবল একটি ছাত্রসংগঠন নয়; এটি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি প্ল্যাটফর্ম। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকাই আমাদের অঙ্গীকার।”
আয়োজনে উপস্থিত শিক্ষার্থীরাও এমন মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাদের মতে, এই ধরনের আয়োজন ক্যাম্পাসে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সব মিলিয়ে ইফতার মাহফিলটি কেবল রোজা ভাঙার আয়োজন ছিল না; বরং এটি ছিল ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও সহমর্মিতার এক উজ্জ্বল প্রকাশ—যা রমজানের প্রকৃত চেতনাকেই তুলে ধরেছে।



















