ঢাকা ১২:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo চার দিন পর কমল সোনার দাম Logo রাশিয়ায় ল্যাবে টেস্টটিউব ভেঙে সংক্রমিত হয়ে কর্মীর মৃত্যু, ‘প্লেগ’ আশঙ্কায় কোয়ারেন্টাইনে ২ শতাধিক Logo গাজায় নিহত ১৭০ সাংবাদিককে ‘সন্ত্রাসী’ বলল ইসরাইল, নাকচ জাতিসংঘের Logo জন্মহার বাড়াতে এবার জুটি খুঁজে দিচ্ছে সিঙ্গাপুর সরকার Logo প্রীতম–শেহতাজের বিবাহবিচ্ছেদ Logo হরমুজে মার্কিন তত্ত্বাবধানে পরিচালিত রুট ব্যবহারকারী জাহাজকে ইরানের সতর্কবার্তা Logo সালমান মুক্তাদিরকে মারধরের চেষ্টা এবং রাষ্ট্রপতির সোফায় প্রধানমন্ত্রীর বসার নেপথ্যে কী? Logo রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করবে প্রশাসন, তদন্ত কমিটি গঠন Logo চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণের প্রতিযোগিতায় তিন পরাশক্তি Logo নতুন ঋণ পর্যালোচনায় আসছে আইএমএফ

হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ইরান

ইরান যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। হরমুজ প্রণালির আধিপত্য কার হাতে তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি দাবির ধোঁয়াশা কাটতে শুরু করেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথে মার্কিন বাহিনী টহল জোরদার করার পর নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে গিয়ে ইরান ক্রমশ পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে।

জাহাজের গতিবিধি নজরদারি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর স্যাটেলাইট ও ট্রান্সপন্ডার থেকে পাওয়া তথ্যে এ পরিস্থিতি পরিস্কার হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করা ৮০ শতাংশেরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ ওমানের আন্তর্জাতিক নৌপথটি ব্যবহার করেছে।

শুরুতে পুরো প্রণালিকে নিজেদের এলাকা দাবি করেছিল তেহরান। এমনকি ওমানের উত্তর উপকূলের কাছে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলাও চালিয়েছিল ইরান। কিন্তু ঝুঁকি উপেক্ষা করেই বেশিরভাগ জাহাজ প্রণালি পারাপারের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কেপলারের অপরিশোধিত তেল বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান হোমায়ুন ফালাকশাহি বলেন, ‘ক্রমশই মনে হচ্ছে যে ইরান প্রণালিটির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।’

রুট পরিবর্তন

এক মাস আগেও ওমানের এ রুটে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধই ছিল। কিন্তু রুট পরিবর্তনের ফলে জলপথটি ব্যবহারকারী জাহাজগুলো থেকে আগের মতো আর টোল আদায় করতে পারছে না তেহরান। চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় তাত্ত্বিকভাবে ইরান আবারও টোল আদায় শুরু করতে পারত। পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেপলারের মতে, বাস্তব পরিস্থিতিতে দেশটি সেই সক্ষমতা ধরে রাখতে পারেনি।

পিকারিং এনার্জি পার্টনার্সের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা ড্যান পিকারিং বলেন, টোল আদায়ের জন্য ইরানের অনুরোধ মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশ একমত নয় । সুতরাং ওমান পথটিই নিঃসন্দেহে সবচেয়ে যৌক্তিক।

লিপো অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের প্রধান অ্যান্ডি লিপো ভিন্ন কৌশলের কথা বলেছেন। ইরানের হামলা এড়াতে কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশাল আকৃতির তেল ট্যাঙ্কার (ভিএলসিসি) ভাড়া দিচ্ছে। এসব ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে ওমান উপসাগরের বিপদমুক্ত অঞ্চলে গিয়ে অন্যান্য গ্রাহক ট্যাঙ্কারে তেল স্থানান্তর করছে।

স্বচ্ছতার অভাব

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীর ওপর তার দেশের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে সোমবার দাবি করলেও মাঠের বাস্তবতা কিন্তু অন্য কথা বলছে। জলপথটিতে ইরানের অব্যাহত হামলা এবং তেলের সরবরাহ এখনও আগের অবস্থায় না ফেরায় ওয়াশিংটনের এই দাবির পেছনে যথেষ্ট শক্ত যুক্তি নেই। তবে জলপথটিতে তেহরানও আর আগের মতো একক আধিপত্য দেখাতে পারছে না।

পরিস্থিতিকে নতুন করে জটিল করে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রকে বাইরে রেখে ওমান ও ইরানের মধ্যে শুরু হওয়া দ্বিপক্ষীয় আলোচনা। প্রণালিতে নৌচলাচলের স্বাধীনতা ফেরাতে দুই দেশের বৈঠক ট্রাম্পের অসন্তোষ বাড়ালেও বাণিজ্যপথে এর প্রভাব কতটা পড়বে তা এখনও নিশ্চিত নয়। পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করে লিপো অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের প্রধান অ্যান্ডি লিপো বলেন, আমি সমস্ত তথ্য ও শিরোনামগুলো ‘বিবেচনাধীন’ রাখব। তবে এটা বলা যায়, ‘ইরান প্রণালিটির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।’

সূত্র: সিএনএন

জনপ্রিয়

চার দিন পর কমল সোনার দাম

হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ইরান

প্রকাশিত ০১:৪৯:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

ইরান যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। হরমুজ প্রণালির আধিপত্য কার হাতে তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি দাবির ধোঁয়াশা কাটতে শুরু করেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথে মার্কিন বাহিনী টহল জোরদার করার পর নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে গিয়ে ইরান ক্রমশ পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে।

জাহাজের গতিবিধি নজরদারি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর স্যাটেলাইট ও ট্রান্সপন্ডার থেকে পাওয়া তথ্যে এ পরিস্থিতি পরিস্কার হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করা ৮০ শতাংশেরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ ওমানের আন্তর্জাতিক নৌপথটি ব্যবহার করেছে।

শুরুতে পুরো প্রণালিকে নিজেদের এলাকা দাবি করেছিল তেহরান। এমনকি ওমানের উত্তর উপকূলের কাছে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলাও চালিয়েছিল ইরান। কিন্তু ঝুঁকি উপেক্ষা করেই বেশিরভাগ জাহাজ প্রণালি পারাপারের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কেপলারের অপরিশোধিত তেল বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান হোমায়ুন ফালাকশাহি বলেন, ‘ক্রমশই মনে হচ্ছে যে ইরান প্রণালিটির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।’

রুট পরিবর্তন

এক মাস আগেও ওমানের এ রুটে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধই ছিল। কিন্তু রুট পরিবর্তনের ফলে জলপথটি ব্যবহারকারী জাহাজগুলো থেকে আগের মতো আর টোল আদায় করতে পারছে না তেহরান। চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় তাত্ত্বিকভাবে ইরান আবারও টোল আদায় শুরু করতে পারত। পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেপলারের মতে, বাস্তব পরিস্থিতিতে দেশটি সেই সক্ষমতা ধরে রাখতে পারেনি।

পিকারিং এনার্জি পার্টনার্সের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা ড্যান পিকারিং বলেন, টোল আদায়ের জন্য ইরানের অনুরোধ মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশ একমত নয় । সুতরাং ওমান পথটিই নিঃসন্দেহে সবচেয়ে যৌক্তিক।

লিপো অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের প্রধান অ্যান্ডি লিপো ভিন্ন কৌশলের কথা বলেছেন। ইরানের হামলা এড়াতে কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশাল আকৃতির তেল ট্যাঙ্কার (ভিএলসিসি) ভাড়া দিচ্ছে। এসব ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে ওমান উপসাগরের বিপদমুক্ত অঞ্চলে গিয়ে অন্যান্য গ্রাহক ট্যাঙ্কারে তেল স্থানান্তর করছে।

স্বচ্ছতার অভাব

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীর ওপর তার দেশের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে সোমবার দাবি করলেও মাঠের বাস্তবতা কিন্তু অন্য কথা বলছে। জলপথটিতে ইরানের অব্যাহত হামলা এবং তেলের সরবরাহ এখনও আগের অবস্থায় না ফেরায় ওয়াশিংটনের এই দাবির পেছনে যথেষ্ট শক্ত যুক্তি নেই। তবে জলপথটিতে তেহরানও আর আগের মতো একক আধিপত্য দেখাতে পারছে না।

পরিস্থিতিকে নতুন করে জটিল করে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রকে বাইরে রেখে ওমান ও ইরানের মধ্যে শুরু হওয়া দ্বিপক্ষীয় আলোচনা। প্রণালিতে নৌচলাচলের স্বাধীনতা ফেরাতে দুই দেশের বৈঠক ট্রাম্পের অসন্তোষ বাড়ালেও বাণিজ্যপথে এর প্রভাব কতটা পড়বে তা এখনও নিশ্চিত নয়। পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করে লিপো অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের প্রধান অ্যান্ডি লিপো বলেন, আমি সমস্ত তথ্য ও শিরোনামগুলো ‘বিবেচনাধীন’ রাখব। তবে এটা বলা যায়, ‘ইরান প্রণালিটির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।’

সূত্র: সিএনএন