ঢাকা ০১:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo দিল্লিতে এসআইআর বিরোধী বিক্ষোভে নেমে আটক শতাধিক Logo বাজারে বাড়ছে শীতের আগাম সবজি, দাম এখনো চড়া Logo স্টেট ব্যাংক অব ইনডিয়ায় সাইবার হামলা, ৪ হাজার গ্রাহকের তথ্য ডার্ক ওয়েবে Logo ‘নালার সংস্কারকাজ করিয়ে ২০-৫০ হাজার টাকা নেন নয়নের অনুসারীরা’ Logo নতুন করে বিক্ষোভের আশঙ্কায় নিরাপত্তা কঠোর করছে ফ্রান্স Logo সাইবার হামলায় অচল ছিল উত্তর কোরিয়ার সরকারি ওয়েবসাইট Logo পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা সামলে প্রথম জয়ের গল্প লিখল ফর্টিস এফসি Logo ‘ব্যক্তি স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করা যাবে না’ Logo প্রয়োজন কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ এবং বিকল্প শ্রমবাজার Logo তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করলো মিয়ানমার

বিদেশে বাস্তুচ্যুত হয়ে থাকা নিজেদের নাগরিকদের ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে’ দেশে ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মিয়ানমার। একই সঙ্গে দেশটি আবারও রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয় ও অস্তিত্ব অস্বীকার করেছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে। মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতির মধ্যেই এ বিবৃতি দেওয়া হলো।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচাই করা বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তবে একই বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে নিজেদের আগের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটি। মিয়ানমারের দাবি, ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি এমন একটি জাতিগত পরিচয়কে বোঝায়, যার কোনো অস্তিত্ব দেশটিতে কখনো ছিল না। দেশটি কয়েকটি দেশে পালিত ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবসের’ও নিন্দা জানিয়েছে।

মালয়েশিয়া ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রত্যাবাসন নিয়ে মূল উদ্বেগ রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ঘিরে। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হলে রোহিঙ্গারা আবারও নিপীড়ন ও নির্যাতনের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

গত জুলাইয়ে মালয়েশিয়া জানিয়েছিল, মিয়ানমার ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে দেশে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। প্রথম দফায় সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিয়ানমারের নাগরিককে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরত পাঠানোর কথা রয়েছে। তবে এ দফায় কতজন রোহিঙ্গা থাকবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়নের পর লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেন। ওই সামরিক অভিযানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা চলছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। মিয়ানমারে তাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। মালয়েশিয়াতেও প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা রয়েছেন।

রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় নিয়ে মিয়ানমারের অবস্থান দীর্ঘদিনের। দেশটি রোহিঙ্গাদের স্বতন্ত্র জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। মিয়ানমারের দাবি, তারা বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অভিবাসীদের বংশধর। এ কারণে দেশটির কর্তৃপক্ষ সাধারণত ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটিও ব্যবহার করতে অস্বীকৃতি জানায়।

অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল বলেছেন, কোনো মিয়ানমারের নাগরিককে এমন পরিস্থিতিতে দেশে ফেরত পাঠানো হবে না, যেখানে তার ওপর নিপীড়নের আশঙ্কা রয়েছে বা জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসইভাবে দেশে ফেরার মতো প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বর্তমানে মিয়ানমারে নেই।

এদিকে মালয়েশিয়ায় থাকা অনেক অভিবাসী আটককেন্দ্রেও রয়েছেন। ফলে তাদের দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত কতটা স্বাধীনভাবে নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে চলমান পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের নতুন করে পরিচয় অস্বীকার এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ নিয়ে জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে।

 

সূত্রঃ বিবিসি

জনপ্রিয়

দিল্লিতে এসআইআর বিরোধী বিক্ষোভে নেমে আটক শতাধিক

রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করলো মিয়ানমার

প্রকাশিত ১১:১৫:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদেশে বাস্তুচ্যুত হয়ে থাকা নিজেদের নাগরিকদের ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে’ দেশে ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মিয়ানমার। একই সঙ্গে দেশটি আবারও রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয় ও অস্তিত্ব অস্বীকার করেছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে। মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতির মধ্যেই এ বিবৃতি দেওয়া হলো।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচাই করা বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তবে একই বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে নিজেদের আগের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটি। মিয়ানমারের দাবি, ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি এমন একটি জাতিগত পরিচয়কে বোঝায়, যার কোনো অস্তিত্ব দেশটিতে কখনো ছিল না। দেশটি কয়েকটি দেশে পালিত ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবসের’ও নিন্দা জানিয়েছে।

মালয়েশিয়া ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রত্যাবাসন নিয়ে মূল উদ্বেগ রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ঘিরে। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হলে রোহিঙ্গারা আবারও নিপীড়ন ও নির্যাতনের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

গত জুলাইয়ে মালয়েশিয়া জানিয়েছিল, মিয়ানমার ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে দেশে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। প্রথম দফায় সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিয়ানমারের নাগরিককে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরত পাঠানোর কথা রয়েছে। তবে এ দফায় কতজন রোহিঙ্গা থাকবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়নের পর লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেন। ওই সামরিক অভিযানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা চলছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। মিয়ানমারে তাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। মালয়েশিয়াতেও প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা রয়েছেন।

রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় নিয়ে মিয়ানমারের অবস্থান দীর্ঘদিনের। দেশটি রোহিঙ্গাদের স্বতন্ত্র জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। মিয়ানমারের দাবি, তারা বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অভিবাসীদের বংশধর। এ কারণে দেশটির কর্তৃপক্ষ সাধারণত ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটিও ব্যবহার করতে অস্বীকৃতি জানায়।

অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল বলেছেন, কোনো মিয়ানমারের নাগরিককে এমন পরিস্থিতিতে দেশে ফেরত পাঠানো হবে না, যেখানে তার ওপর নিপীড়নের আশঙ্কা রয়েছে বা জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসইভাবে দেশে ফেরার মতো প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বর্তমানে মিয়ানমারে নেই।

এদিকে মালয়েশিয়ায় থাকা অনেক অভিবাসী আটককেন্দ্রেও রয়েছেন। ফলে তাদের দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত কতটা স্বাধীনভাবে নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে চলমান পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের নতুন করে পরিচয় অস্বীকার এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ নিয়ে জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে।

 

সূত্রঃ বিবিসি