আর্কটিক অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি আরও সুদৃঢ় করার উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে নতুন করে দুটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের একটি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এই সামরিক স্থাপনাগুলো গড়ে তোলা হবে। দীর্ঘ আলোচনার পর সম্পন্ন হওয়া এই প্রতিরক্ষা চুক্তিটি বিশ্ব রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের অংশ হিসেবে আয়োজিত পার্শ্ব বৈঠকে এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিন দেশের প্রতিনিধিরাই অংশ নেন এবং পারস্পরিক নিরাপত্তার স্বার্থে সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এর আগে গত এক বছর ধরে আর্কটিক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ও সামরিক উপস্থিতি নিয়ে গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে একধরনের শীতলতা ও উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বর্তমান এই নতুন চুক্তির মধ্য দিয়ে সেই দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনার অবসান ঘটল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে আর্কটিক অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়ার কারণে সেখানে নতুন সমুদ্রপথ ও খনিজ সম্পদের সন্ধান মিলছে। এর ফলে ওই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে, যা পরাশক্তিগুলোর নজর কেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা মনে করছে, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা মোকাবিলা করার জন্য এই নতুন ঘাঁটিগুলো অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে এই অঞ্চলের আকাশ ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাবে।
প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে নির্মিতব্য নতুন ঘাঁটি দুটি পরিচালনার ক্ষেত্রে স্থানীয় গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখা হবে। পরিবেশগত দিক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখেই সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করার বিষয়টি চুক্তিতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সব মিলিয়ে, আর্কটিক অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।





































