ঢাকা ০২:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ফাহাদ দাবিতে প্রকাশিত ছবির কিশোর অপ্রতিমের হত্যাকারী ফাহাদ নয়, তার নাম মাহিম Logo মানবাধিকার সুরক্ষা প্রশ্নে কথা রাখতে পারেনি বিএনপি: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ Logo ৮৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শোকজ Logo ইসলামী ব্যাংকের বাংলা কিউআর লেনদেনে স্মার্টফোন জেতার সুযোগ Logo ডেঙ্গুতে আরও ২ মৃত্যু, নতুন ভর্তি ৬৭১ Logo বাকৃবি কারিগরি কর্মচারী সমিতির সভাপতি ওবায়দুর, সাধারণ সম্পাদক সুলতান Logo নীরব ঘাতক হৃদরোগ: যেসব সূক্ষ্ম লক্ষণ দেখে আগেই সতর্ক হবেন Logo পত্রিকা: ‘বোয়িংয়ের সাথে চুক্তি চূড়ান্তের পথে, এয়ারবাস নিয়ে ফ্রান্সের চাপ’ Logo জাতিসংঘের ভাষণে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের Logo ‘সাথী’ আমার জীবনটাই বদলে দিয়েছে: প্রিয়াঙ্কা

মানবাধিকার সুরক্ষা প্রশ্নে কথা রাখতে পারেনি বিএনপি: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার সুরক্ষার সংস্কার নিয়ে বিএনপি যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা তারা রক্ষা করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বা এইচআরডব্লিউ। সম্প্রতি প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে যে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন সরকার বা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সাধারণ মানুষের যে ধরনের গণতান্ত্রিক ও নাগরিক অধিকারের প্রত্যাশা ছিল, বর্তমান বাস্তবতায় তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে দেশের বিচারব্যবস্থা, বাকস্বাধীনতা এবং সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে যে কাঠামোগত পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে বলে মনে করছে এই আন্তর্জাতিক সংগঠনটি।

সংস্থাটির মূল মূল্যায়নে উঠে এসেছে যে, সংস্কারের জোরালো প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এমন কিছু বিতর্কিত আইন পাস করা হয়েছে যা দেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে যে, সম্প্রতি পাস হওয়া তিনটি আইন দেশের চলমান মানবাধিকার সুরক্ষা ব্যবস্থার অগ্রগতিকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে এবং এটি অতীতে অর্জিত গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও জনমতের সঙ্গে একপ্রকার বৈপরীত্য তৈরি করছে। এই ধরনের আইন প্রণয়ন নাগরিক সমাজের কাজের পরিসরকে সংকুচিত করার পাশাপাশি ভিন্নমত দমনের নতুন পথ উন্মুক্ত করতে পারে বলে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশি জনগণের দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী আন্দোলন এবং ব্যাপক আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এমন আইনি পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেছে এইচআরডব্লিউ। বিবৃতিতে আরও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার আগে বা যেকোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক দলগুলো যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে, তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, মানবাধিকার রক্ষার ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনে রাজনৈতিক নেতৃত্ব এখনও যথেষ্ট সদিচ্ছা বা দক্ষতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

পরিস্থিতির এই অবনতি রোধ করতে এবং দেশের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে বর্তমান সরকারের প্রতি অবিলম্বে বিতর্কিত আইনগুলো পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নত করতে এবং জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাটির এই কঠোর অবস্থানের ফলে বাংলাদেশের মানবাধিকার ও রাজনৈতিক সংস্কারের বিষয়টি আবারও বিশ্ব দরবারে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে এবং দেশের অভ্যন্তরেও এ নিয়ে নতুন করে বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক মহলে নানামুখী বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।

জনপ্রিয়

ফাহাদ দাবিতে প্রকাশিত ছবির কিশোর অপ্রতিমের হত্যাকারী ফাহাদ নয়, তার নাম মাহিম

মানবাধিকার সুরক্ষা প্রশ্নে কথা রাখতে পারেনি বিএনপি: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

প্রকাশিত ০১:৪৬:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার সুরক্ষার সংস্কার নিয়ে বিএনপি যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা তারা রক্ষা করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বা এইচআরডব্লিউ। সম্প্রতি প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে যে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন সরকার বা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সাধারণ মানুষের যে ধরনের গণতান্ত্রিক ও নাগরিক অধিকারের প্রত্যাশা ছিল, বর্তমান বাস্তবতায় তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে দেশের বিচারব্যবস্থা, বাকস্বাধীনতা এবং সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে যে কাঠামোগত পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে বলে মনে করছে এই আন্তর্জাতিক সংগঠনটি।

সংস্থাটির মূল মূল্যায়নে উঠে এসেছে যে, সংস্কারের জোরালো প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এমন কিছু বিতর্কিত আইন পাস করা হয়েছে যা দেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে যে, সম্প্রতি পাস হওয়া তিনটি আইন দেশের চলমান মানবাধিকার সুরক্ষা ব্যবস্থার অগ্রগতিকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে এবং এটি অতীতে অর্জিত গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও জনমতের সঙ্গে একপ্রকার বৈপরীত্য তৈরি করছে। এই ধরনের আইন প্রণয়ন নাগরিক সমাজের কাজের পরিসরকে সংকুচিত করার পাশাপাশি ভিন্নমত দমনের নতুন পথ উন্মুক্ত করতে পারে বলে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশি জনগণের দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী আন্দোলন এবং ব্যাপক আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এমন আইনি পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেছে এইচআরডব্লিউ। বিবৃতিতে আরও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার আগে বা যেকোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক দলগুলো যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে, তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, মানবাধিকার রক্ষার ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনে রাজনৈতিক নেতৃত্ব এখনও যথেষ্ট সদিচ্ছা বা দক্ষতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

পরিস্থিতির এই অবনতি রোধ করতে এবং দেশের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে বর্তমান সরকারের প্রতি অবিলম্বে বিতর্কিত আইনগুলো পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নত করতে এবং জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাটির এই কঠোর অবস্থানের ফলে বাংলাদেশের মানবাধিকার ও রাজনৈতিক সংস্কারের বিষয়টি আবারও বিশ্ব দরবারে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে এবং দেশের অভ্যন্তরেও এ নিয়ে নতুন করে বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক মহলে নানামুখী বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।