যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা বাংলাদেশে একটি দাপ্তরিক কার্যালয় খোলার বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত সফরের প্রথম দিনেই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকে দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল বাজার এবং ফেসবুকের বিশাল ব্যবহারকারী ভিত্তির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।
বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, শুধু অফিস স্থাপনই নয়, বরং দেশের ই-কমার্স এবং অনলাইন ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণেও একসঙ্গে কাজ করতে চায় মেটা। বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেটে প্রযুক্তি ও ই-কমার্স খাতকে যে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রযুক্তিগত শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতেও প্রতিষ্ঠানটি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি।
ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং অনলাইন হয়রানি রোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও মেটার সঙ্গে বৈঠকে স্থান পেয়েছে বলে জানান শামা ওবায়েদ। বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় ইন্টারনেটে হয়রানি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমাতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছে মেটা। একইসঙ্গে দেশের সাইবার নিরাপত্তা আইন এবং এর বিভিন্ন দিক নিয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দেশের ডিজিটাল পরিবেশকে আরও নিরাপদ করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়বস্তুও গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়ার পাশাপাশি বিগত বছরগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক ভঙ্গুরতা ও বর্তমান জ্বালানি সংকটের মতো বিষয়গুলো তুলে ধরা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মহল থেকে ইতিবাচক সাড়া মিলছে। মেটার ঢাকায় অফিস চালুর চূড়ান্ত সময়সূচি ও প্রক্রিয়া তারা নিজেদের মধ্যে পর্যালোচনার পর জানাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

































