ঢাকা ১২:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

ইসরাইলে পুলিশে পদত্যাগের হিড়িক, জনবলের ব্যাপক সংকট

ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দেশটির পুলিশ বাহিনীতে ব্যাপকহারে পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। মূলত পুলিশের উচ্চপদস্থ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের অনেকেই দায়িত্ব ছেড়ে চলে যাওয়ায় দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ এই সংকট এমন এক সময়ে প্রকাশ পেল যখন খোদ দেশটিতে নিরাপত্তা কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।

ইসরাইলি সংবাদপত্র হারেৎজের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান নিরাপত্তামন্ত্রীর ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে প্রায় ২৮ শতাংশ পুলিশ কর্মকর্তা তাদের পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। পুলিশের অভ্যন্তরীণ জনবল সংকট নিয়ে আয়োজিত এক গোপনীয় বৈঠকে এই উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান উপস্থাপন ও নথিবদ্ধ করা হয়। ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে উগ্রপন্থী রাজনীতিক ইতামার বেন-গভির জাতীয় নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মূলত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে এই পদত্যাগের প্রবণতা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায়।

বাহিনীতে কর্মী সংকট কাটানোর জন্য কর্তৃপক্ষ নতুন সদস্য নিয়োগের প্রক্রিয়া বাড়ালেও তাতে খুব একটা সুফল মিলছে না। নতুন নিয়োগ পাওয়া পুলিশ কর্মীদের একটি বড় অংশকে মূল ট্রাফিক বা সাধারণ থানার পরিবর্তে বর্ডার পুলিশ কিংবা বিতর্কিত ন্যাশনাল গার্ডে পদায়ন করা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ পুলিশ স্টেশন এবং ট্রাফিক বিভাগগুলোতে বর্তমানে প্রায় দুই হাজার কর্মকর্তার তীব্র ঘাটতি রয়েছে। এই জনবল শূন্যতার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনের নিয়মিত কার্যক্রমে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যাশনাল গার্ড বাহিনী গঠনের উদ্যোগ এবং বেন-গভিরের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডই পুলিশ বাহিনীর এই অভ্যন্তরীণ সংকটের অন্যতম মূল কারণ। বিরোধী পক্ষ শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছে যে রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের জন্যই প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই বিতর্কিত বাহিনীকে মন্ত্রীর অধীনে রাখতে সম্মতি দিয়েছেন। ফলে পুলিশ বাহিনীতে চলমান এই নজিরবিহীন পদত্যাগের হিড়িক এবং জনবলের তীব্র ঘাটতি দেশটির সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

জনপ্রিয়

ইসরাইলে পুলিশে পদত্যাগের হিড়িক, জনবলের ব্যাপক সংকট

ইসরাইলে পুলিশে পদত্যাগের হিড়িক, জনবলের ব্যাপক সংকট

প্রকাশিত ১২:৪৫:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দেশটির পুলিশ বাহিনীতে ব্যাপকহারে পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। মূলত পুলিশের উচ্চপদস্থ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের অনেকেই দায়িত্ব ছেড়ে চলে যাওয়ায় দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ এই সংকট এমন এক সময়ে প্রকাশ পেল যখন খোদ দেশটিতে নিরাপত্তা কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।

ইসরাইলি সংবাদপত্র হারেৎজের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান নিরাপত্তামন্ত্রীর ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে প্রায় ২৮ শতাংশ পুলিশ কর্মকর্তা তাদের পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। পুলিশের অভ্যন্তরীণ জনবল সংকট নিয়ে আয়োজিত এক গোপনীয় বৈঠকে এই উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান উপস্থাপন ও নথিবদ্ধ করা হয়। ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে উগ্রপন্থী রাজনীতিক ইতামার বেন-গভির জাতীয় নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মূলত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে এই পদত্যাগের প্রবণতা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায়।

বাহিনীতে কর্মী সংকট কাটানোর জন্য কর্তৃপক্ষ নতুন সদস্য নিয়োগের প্রক্রিয়া বাড়ালেও তাতে খুব একটা সুফল মিলছে না। নতুন নিয়োগ পাওয়া পুলিশ কর্মীদের একটি বড় অংশকে মূল ট্রাফিক বা সাধারণ থানার পরিবর্তে বর্ডার পুলিশ কিংবা বিতর্কিত ন্যাশনাল গার্ডে পদায়ন করা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ পুলিশ স্টেশন এবং ট্রাফিক বিভাগগুলোতে বর্তমানে প্রায় দুই হাজার কর্মকর্তার তীব্র ঘাটতি রয়েছে। এই জনবল শূন্যতার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনের নিয়মিত কার্যক্রমে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যাশনাল গার্ড বাহিনী গঠনের উদ্যোগ এবং বেন-গভিরের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডই পুলিশ বাহিনীর এই অভ্যন্তরীণ সংকটের অন্যতম মূল কারণ। বিরোধী পক্ষ শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছে যে রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের জন্যই প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই বিতর্কিত বাহিনীকে মন্ত্রীর অধীনে রাখতে সম্মতি দিয়েছেন। ফলে পুলিশ বাহিনীতে চলমান এই নজিরবিহীন পদত্যাগের হিড়িক এবং জনবলের তীব্র ঘাটতি দেশটির সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিয়েছে।