মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক বাহিনীর প্রধানদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার এবং সম্ভাব্য আক্রমণ মোকাবিলায় এই তিন দেশের যৌথ কৌশল নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে।
জাতিসংঘ সদরদপ্তরে সম্প্রতি সৌদি আরবের স্থায়ী মিশনে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই যৌথ উদ্যোগের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান অংশ নেন। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির কাঠামোর আওতায় এই জরুরি বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে, যেখানে একটি দেশের ওপর আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ বলে গণ্য করা হয়।
বৈঠকে সৌদি আরবের পবিত্র স্থান মক্কা এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। পাশাপাশি সৌদি সশস্ত্র বাহিনীর নেওয়া প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপগুলোর উচ্চ প্রশংসা করেন অংশ নেওয়া মন্ত্রীরা। সম্প্রতি সৌদির বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
এই সার্বিক উত্তেজনার মধ্যেই দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় কড়া বার্তা দিয়েছেন সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ সালেহ বিন ফাওজান। সীমান্তে মোতায়েন করা সেনাসদস্যদের সবসময় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের ভূখণ্ড রক্ষা এবং যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করা পবিত্র দায়িত্ব। অন্যদিকে, লোহিত সাগরের কৌশলগত বন্দর ইয়ানবুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবে অতিরিক্ত সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স।



































